নতুন মন্ত্রিসভার গড় বয়স ৬০ বছর, সর্বজ্যেষ্ঠ ৮১ ও সর্বকনিষ্ঠ ৩১ বছর
নতুন মন্ত্রিসভার গড় বয়স ৬০ বছর, সর্বজ্যেষ্ঠ ৮১

নতুন মন্ত্রিসভার বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতার বিশ্লেষণ

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর গতকাল মঙ্গলবার সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এই মন্ত্রিসভার সদস্যদের গড় বয়স প্রায় ৬০ বছর। মোট ৫০ জন সদস্যের মধ্যে ৪৯ জনের বয়সের তথ্য পাওয়া গেছে, যা যোগ করে গড় বয়স দাঁড়ায় ৫৯.৬১ বছর।

বয়সভিত্তিক বিন্যাস

বয়স বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৪৯ জন সদস্যের মধ্যে ৩৯ জনের বয়স ৫০ বছরের বেশি। অর্থাৎ মন্ত্রিসভার প্রায় ৮০ শতাংশ সদস্যই ৫০ বছরের ঊর্ধ্বে। এদের মধ্যে ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সী রয়েছেন ১৬ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছর বয়সী ১৪ জন এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সী রয়েছেন ৯ জন সদস্য। অন্যদিকে, ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী রয়েছেন ২ জন এবং ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী রয়েছেন ৮ জন সদস্য।

সর্বজ্যেষ্ঠ সদস্য হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ উদ্দিন আহমদের বয়স ৮১ বছর। তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। ১৯৮৬ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি এবং ভোলা-৩ আসন থেকে এবার সপ্তমবার সংসদ সদস্য হয়েছেন। ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার সরকারেও তিনি মন্ত্রী ছিলেন।

সর্বকনিষ্ঠ সদস্য নুরুল হক নুরের বয়স ৩১ বছর। তিনি শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। পটুয়াখালী-৪ আসন থেকে নির্বাচিত নুরুল হক ডাকসুর সাবেক ভিপি এবং এবারই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

শিক্ষাগত যোগ্যতা

মন্ত্রিসভার সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৫০ জনের মধ্যে ৪৬ জনই উচ্চশিক্ষিত। এর মধ্যে পিএইচডি ডিগ্রিধারী রয়েছেন তিনজন এবং বার এট ল ডিগ্রিধারী রয়েছেন ২ জন। এছাড়া এসএসসি পাস সদস্য রয়েছেন ২ জন, এইচএসসি পাস সদস্য রয়েছেন একজন এবং স্বশিক্ষিত সদস্য রয়েছেন একজন।

পিএইচডি ডিগ্রিধারী তিনজন হলেন: আ ন ম এহছানুল হক মিলন (শিক্ষামন্ত্রী), খলিলুর রহমান (পররাষ্ট্রমন্ত্রী, টেকনোক্রেট) এবং এম এ মুহিত (স্বাস্থ্য ও আইসিটি প্রতিমন্ত্রী)। বার এট ল ডিগ্রিধারী দুজন হলেন: কায়সার কামাল (ভূমি প্রতিমন্ত্রী) এবং মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী)।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এইচএসসি পাস এবং তাঁর বয়স ৫৭ বছর। তিনি ঢাকা ও বগুড়ার দুটি আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। স্বশিক্ষিত সদস্য হিসেবে আরিফুল হক চৌধুরী শ্রম, কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।

পেশাগত বিশ্লেষণ

মন্ত্রিসভার সদস্যদের পেশা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৫০ জনের মধ্যে ৩১ জনই প্রধান পেশা হিসেবে ব্যবসা উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ মন্ত্রিসভার ৬২ শতাংশ সদস্যই ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ীদের পরেই রয়েছেন আইনজীবী, যাদের সংখ্যা ৭ জন।

এছাড়া তারেক রহমানসহ দুজন নিজেদের পেশা রাজনীতি উল্লেখ করেছেন। অন্যান্য পেশার মধ্যে রয়েছেন দুজন চিকিৎসক, একজন শিক্ষক, একজন বিজ্ঞানী, একজন সাবেক কূটনীতিক, একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, একজন কৃষক, একজন পরামর্শক, একজন প্রকাশক এবং একজন প্রকৌশলী।

নতুন মন্ত্রিসভায় মোট ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাবা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পর এবার সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নিয়েছেন।