বাংলাদেশের নতুন মন্ত্রিসভায় ২৫ পূর্ণ মন্ত্রী ও ২ প্রতিমন্ত্রীর শপথগ্রহণ
বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভায় মোট ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ গ্রহণ করেছেন। ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এই মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শপথ বাক্য পাঠ করান, যার মাধ্যমে নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
পূর্ণ মন্ত্রীদের তালিকা ও দায়িত্ব বণ্টন
নতুন মন্ত্রিসভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে, যেখানে বিএনপির প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতারা গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।
- আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী – অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। চট্টগ্রাম-১১ থেকে নির্বাচিত তিনি প্রথমবার ১৯৯১ সালে চট্টগ্রাম-৮ থেকে বিএনপির টিকিটে সংসদ সদস্য হন এবং ২০০১ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য।
- আরিফুল হক চৌধুরী – শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। সিলেট-৪ থেকে নির্বাচিত তিনি ২০০৩ সালে ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন এবং দুই মেয়াদে সিলেট সিটি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি ১ লাখ ১০ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হন।
- সালাহউদ্দিন আহমেদ – স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং পূর্বে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী (২০০১–২০০৬) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালের মার্চ মাসে অপহৃত হওয়ার পর তিনি ভারতের শিলংয়ে পুনরায় আবির্ভূত হন এবং ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
- ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু – বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। সিরাজগঞ্জ-২ থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত তিনি পূর্বে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী (২০০১–২০০৬) ছিলেন। সর্বশেষ নির্বাচনে তিনি ১ লাখ ৭৭ হাজার ৬৩১ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে ৩৯ হাজার ৪০৬ ভোটে পরাজিত করেন।
- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর – স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। ২৬ জানুয়ারি ১৯৪৮ সালে জন্মগ্রহণকারী তিনি ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পড়াশোনা করেন। ২০১১ সাল থেকে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং পূর্বে কৃষি ও বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের দায়িত্ব
নতুন মন্ত্রিসভায় আরও বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ নেতা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন, যা সরকারের কার্যকারিতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
- মোঃ আসাদুজ্জামান – আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। বাংলাদেশের সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে তিনি ঝিনাইদহ-১ থেকে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৮১ ভোটে নির্বাচিত হন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগে তিনি ১৭তম অ্যাটর্নি জেনারেল পদ থেকে ইস্তফা দেন এবং পূর্বে বিএনপির মানবাধিকার সম্পাদক ও খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ছিলেন।
- মোঃ শাহিদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি – পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। লক্ষ্মীপুর-৩ থেকে তিন মেয়াদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত তিনি বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব এবং পূর্বে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
- কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কাইকোবাদ – ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। কুমিল্লা-৩ থেকে চার মেয়াদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত তিনি সাবেক সংসদীয় হুইপ ও ধর্ম বিষয়ক ও ওয়াকফ প্রতিমন্ত্রীর ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করেন।
- আবদুল আওয়াল মিন্টু – পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। ফেনী-৩ থেকে নির্বাচিত তিনি এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এবং ব্যবসায়িক পটভূমি থেকে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।
- জহির উদ্দিন স্বপন – তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। বরিশাল-১ থেকে নির্বাচিত তিনি ষষ্ঠ ও অষ্টম সংসদে দায়িত্ব পালন করেন এবং বিএনপির মিডিয়া ও গবেষণা নেতৃত্বের ভূমিকা রাখেন।
প্রতিমন্ত্রীদের তালিকা ও দায়িত্ব
নতুন মন্ত্রিসভায় দুই জন প্রতিমন্ত্রীও শপথ গ্রহণ করেছেন, যারা নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সহায়ক দায়িত্ব পালন করবেন।
- মোহাম্মদ নুরুল হক নুর – শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। পটুয়াখালী-৩ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত তিনি গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
- ইয়াসের খান চৌধুরী – তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। ময়মনসিংহ-৯ থেকে নির্বাচিত তিনি বাংলাদেশে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগদানের আগে বিবিসি লন্ডনে আইটি পেশাদার হিসেবে কাজ করেন।
এই নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের ধারা বজায় রাখার আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে বলে প্রত্যাশা করা যাচ্ছে।
