ত্রয়োদশ সংসদে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় উপমন্ত্রী নেই, বিএনপি সরকারে ২৫ পূর্ণ মন্ত্রী ও ৪৯ প্রতিমন্ত্রী
তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় উপমন্ত্রী নেই, ২৫ পূর্ণ মন্ত্রী ও ৪৯ প্রতিমন্ত্রী

ত্রয়োদশ সংসদে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় উপমন্ত্রী নেই

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে এবং এর মধ্য দিয়ে সংসদ ও মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এই মন্ত্রী পরিষদে মোট ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। এছাড়া প্রতিমন্ত্রীর পদে নিয়োগ পেয়েছেন ৪৯ জন। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই মন্ত্রিসভায় কোনো উপমন্ত্রী নেই।

মঙ্গলবার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান

আজ মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মন্ত্রীরা শপথ গ্রহণ করেছেন। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সরকারের নতুন কাঠামো আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। মন্ত্রিসভায় উপমন্ত্রীর অনুপস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

ইতিহাসে উপমন্ত্রীদের অবস্থান

২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠন করেছিল। তখন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গঠিত সরকারে তিনজন উপমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায় দুজন উপমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন।

তবে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারে কোনো উপমন্ত্রী ছিলেন না।

২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত আওয়ামী লীগ সরকারে একজন উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার রেকর্ড রয়েছে।

২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর টানা চতুর্থ দফায় আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলেও কাউকে উপমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।

ধারাবাহিকতা বজায়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মন্ত্রিসভায়ও উপমন্ত্রী না রাখার ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। তারেক রহমানের বিএনপি মন্ত্রিপরিষদে এই সিদ্ধান্তটি সরকারি কাঠামোর একটি নতুন দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মন্ত্রিসভায় উপমন্ত্রীর অনুপস্থিতি প্রশাসনিক কাঠামোতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকারি পদসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং দায়িত্ব বণ্টনে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে।

বিএনপির নেতৃত্বে গঠিত এই সরকারে মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা এবং কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য আগামী দিনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।