‘মাই রয়্যাল নেমেসিস’ সিরিজে এক ধনকুবেরের চরিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি আলোচনায় উঠে এসেছেন অভিনেতা হিও নাম–জুন। কয়েক বছর আগেও যাঁকে খুব কম দর্শক চিনতেন, এখন তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার উদীয়মান তারকাদের একজন। তবে এই সাফল্যের পথ তাঁর জন্য সহজ ছিল না।
সংগীত থেকে অভিনয়ে যাত্রা
হিও নাম–জুনের উত্থান অনেকের কাছেই হঠাৎ মনে হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। মাত্র ছয় বছরের অভিনয়জীবন এবং ব্যক্তিগত জীবনে তাঁর সংযত উপস্থিতি—সব মিলিয়ে তিনি শুরু থেকেই কিছুটা আড়ালে থাকা তারকা।
এক কৃষক পরিবারে বড় হয়েছেন হিও। যমজ ভাইয়ের সঙ্গে শৈশব কেটেছে তাঁর। ছোটবেলা থেকেই মানুষের মনে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। প্রথমে সেই স্বপ্নের মাধ্যম ছিল সংগীত।
উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে সংগীত নিয়েই পড়াশোনার প্রস্তুতি নেন তিনি। কিন্তু পরে বুঝতে পারেন, কেবল কঠোর পরিশ্রম করলেই সংগীতে কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছানো সম্ভব না–ও হতে পারে। ২০২৪ সালের এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জীবনে প্রথমবার তিনি উপলব্ধি করেন—সব লক্ষ্যই পরিশ্রমে অর্জন করা যায় না।
এরপর পরিচিত এক ব্যক্তির পরামর্শে অভিনয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন তিনি। পরে ভর্তি হন দক্ষিণ কোরিয়ার খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাংকিউনগুয়ান ইউনিভার্সিটির অভিনয় বিভাগে।
সাত বছরের লড়াইয়ের শুরু
২০১৯ সালে পেশাদার অভিনয়জীবন শুরু করেন হিও নাম–জুন। শুরুতে তাঁকে দেখা গেছে ছোট ছোট চরিত্রে। ‘মিসিং: দ্য আদার সাইড’, ‘সুইট হোম’ ও ‘নাইট ইন প্যারাডাইস’-এর মতো আলোচিত প্রযোজনায় কাজ করলেও তিনি মূলধারার দর্শকদের নজরে আসেননি।
তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায় ২০২৪ সালে। ‘ইওর অনার’ ও ‘হোয়েন দ্য ফোন রিংস’ সিরিজে অভিনয়ের পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় তাঁকে ঘিরে। ‘ইওর অনার’-এ তিনি এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর উচ্ছৃঙ্খল ছেলের চরিত্রে অভিনয় করেন। আর ‘হোয়েন দ্য ফোন রিংস’-এ ছিলেন এক নির্ভরযোগ্য সহকর্মীর ভূমিকায়। সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি চরিত্রে তাঁর অভিনয় তাঁকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।
নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা
২০২৫ সালে একের পর এক বড় প্রযোজনায় দেখা যায় হিও নাম–জুনকে। ‘আ হান্ড্রেড মেমোরিজ’-এ প্রথমবারের মতো প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।
অবশেষে ২০২৬ সালে আসে তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য—‘মাই রয়্যাল নেমেসিস’। এতে তিনি এক ধনকুবের চরিত্রে অভিনয় করছেন, যে প্রেমে পড়ে সিও–রি নামের এক অদ্ভুত স্বভাবের নারীর। এই চরিত্র তাঁকে কেবল পার্শ্ব চরিত্রের অভিনেতা থেকে পূর্ণাঙ্গ রোমান্টিক নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে।
সামনে কী?
‘মাই রয়্যাল নেমেসিস’ ২০ জুন শেষ হওয়ার কথা। এরপর তাঁর নতুন কোনো কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। তবে জনপ্রিয় ওয়েবটুন ‘হোয়েল স্টার: দ্য গিয়ংসিয়ং মারমেইড’-এর নাট্যরূপে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছেন তিনি। কোরিয়া হেরাল্ড অবলম্বনে।



