জাতীয় সংসদে ৪৯ জনের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ
জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় একটি ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন মোট ৪৯ জন ব্যক্তি। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাদের শপথবাক্য পাঠ করান, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
টেকনোক্র্যাট কোটায় তিনজনের অন্তর্ভুক্তি
ঘোষিত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে তিনজন টেকনোক্র্যাট কোটায় জায়গা পেয়েছেন, যা সরকারের কার্যক্রমে প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও বিশেষজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত বহন করে। কে কোন মন্ত্রণালয় পাচ্ছেন তা নিয়ে এখনও চলছে ব্যাপক জল্পনা ও আলোচনা।
বিএনপির তালিকা অনুযায়ী মন্ত্রণালয় বণ্টন
বিএনপির দেওয়া তালিকা অনুসারে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব যাচ্ছে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর হাতে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেওয়া হবে বিএনপির সালাহউদ্দিন আহমদকে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু পাচ্ছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে দেওয়া হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় পাচ্ছেন আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন খলিলুর রহমান, যিনি টেকনোক্র্যাট হিসেবে পরিচিত। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির পেয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। আব্দুল আউয়াল মিন্টু পাচ্ছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় দেওয়া হচ্ছে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদকে। ভূমি ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় পাচ্ছেন যথাক্রমে মিজানুর রহমান মিনু ও নিতাই রায় চৌধুরী।
আ ম ন এহসানুল হক মিলন পাচ্ছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন পাচ্ছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। ফকির মাহবুব আনাম পাচ্ছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।
শেখ রবিউল আলম পাবেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়। আরিফুল হক চৌধুরী পাচ্ছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
জহির উদ্দিন স্বপন পাচ্ছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ পাচ্ছেন কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়। আফরোজা খানম পাচ্ছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।
মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি পাচ্ছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। আসাদুল হাবিব দুলু পাচ্ছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। মো. আসাদুজ্জামান পাচ্ছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। জাকারিয়া তাহের পাচ্ছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং দীপেন দেওয়ান পাচ্ছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
এই মন্ত্রণালয় বণ্টন দেশের বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে নতুন গতিশীলতা আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারের এই পদক্ষেপ জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সহায়ক হবে বলে বিশ্লেষকরা মত দিচ্ছেন।
