সংসদ সাংবাদিকদের তীব্র প্রতিবাদ: শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রবেশে বিধিনিষেধ
বাংলাদেশ সংসদ সাংবাদিক সমিতি (বিপিজেএ) ১৩তম জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের এই সিদ্ধান্তকে সমিতি গণতান্ত্রিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছে।
বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ঘটনা
বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো সাংবাদিকদেরকে জাতীয় সংসদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। যদিও পূর্ববর্তী ১২টি সংসদে কখনোই সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি। বিপিজেএ সভাপতি হারুন জামিল ও সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী খান লিথো যৌথ বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "জাতীয় সংসদ দেশের গণতান্ত্রিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দু এবং এর সাথে সাংবাদিকদের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যমকর্মীরা শুরু থেকেই সংসদীয় কার্যক্রম কভার করার ক্ষেত্রে পর্দার আড়ালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।"
সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনার পেছনে রয়েছে সংসদ সচিবালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অদক্ষতা, অভিজ্ঞতার অভাব এবং স্বেচ্ছাচারিতা। বাংলাদেশ সংসদ সাংবাদিক সমিতির নেতারা কর্তৃপক্ষের সাথে একাধিক বৈঠক করেছেন এবং প্রতিষ্ঠিত রীতিনীতি অনুসারে সাংবাদিকদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান কভার করার অনুমতি দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
বিপিজেএ কর্মকর্তাদের মতে, সমিতি সচিবালয়কে বৈধ অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডধারী সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানালেও ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব করেছেন। যদিও আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি এবং এর কারণ এখনো অস্পষ্ট।
ঐতিহাসিক মুহূর্ত কভার করতে ব্যর্থ সাংবাদিকরা
ফলস্বরূপ, সাংবাদিকরা নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ঐতিহাসিক শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান কভার করতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিবৃতিতে এই ঘটনাকে দেশের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। "আমরা বিশ্বাস করি, এটি ইচ্ছাকৃতভাবে সরকারকে গণমাধ্যমের মুখোমুখি দাঁড় করানো এবং প্রকৃত বিষয়গুলি থেকে মনোযোগ সরানোর জন্য পরিকল্পিত ছিল," বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে সাংবাদিকরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সংসদে যান এবং সংসদীয় কার্যক্রম রিপোর্টিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। "অভিজ্ঞতাহীন, অদক্ষ এবং গণমাধ্যম-বিরোধী কর্মকর্তাদের এটি বুঝতে হবে," বিবৃতিতে যোগ করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান
বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সরকার ও গণমাধ্যমের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করার চেষ্টাকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সমিতি জোর দিয়ে বলেছে যে সংসদ সাংবাদিকদের কাজ গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করে এবং এই ধরনের বিধিনিষেধ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর।
বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এই ঘটনা একটি উল্লেখযোগ্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাংবাদিক সমিতি আশা প্রকাশ করেছে যে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এবং সংসদীয় কার্যক্রমে গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে।
