১০ নম্বর জার্সি পরে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ
১০ নম্বর জার্সি পরে হাসনাত আবদুল্লাহর সংসদ শপথ

১০ নম্বর জার্সি পরে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ

আলোচিত বটল-গ্রিন রঙের ‘১০ নম্বর জার্সি’ পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন হাসনাত আবদুল্লাহ। এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ১টা ২০ মিনিটের পর তিনি এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

গণ–অভ্যুত্থানের দিনগুলোর প্রতীকী জার্সি

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দিনগুলোয় হাসনাত আবদুল্লাহর পরনের ‘১০ নম্বর জার্সি’ ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। সেই সময়ে এটি একটি প্রতীকী পোশাক হিসেবে গণ্য হয়েছিল, যা জনগণের সংগ্রাম ও আন্দোলনের প্রতিফলন ঘটায়। এবার তিনি সেই একই জার্সি পরে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ায়, এই পোশাকটির ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি শুধু একটি জার্সি নয়, বরং একটি আদর্শ ও সংকল্পের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির অন্যান্য সদস্যদের শপথ

হাসনাত আবদুল্লাহসহ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং দলটির ছয় নির্বাচিত প্রার্থী একসাথে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। এই দলটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, যা এই ঘটনাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দ্বিতীয় শপথ

সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর, হাসনাত আবদুল্লাহ এবং তাঁর সহকর্মীরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ গ্রহণ করেন। এই দ্বৈত শপথ তাদের রাজনৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্যের পরিধিকে আরও বিস্তৃত করেছে। এটি দেশের সংবিধানিক উন্নয়ন ও সংস্কার প্রক্রিয়ায় তাদের ভূমিকা নির্দেশ করে, যা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের দিকে ইঙ্গিত করতে পারে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রতিক্রিয়া

এই শপথগ্রহণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। বিশেষ করে, ১০ নম্বর জার্সিটি একটি প্রতীকী বস্তু হয়ে উঠেছে, যা অতীতের গণ–অভ্যুত্থান এবং বর্তমানের সংসদীয় ব্যবস্থার মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, এই ঘটনা রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারে। এছাড়া, এটি নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করে।