বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে তারেক রহমান সংসদ নেতা নির্বাচিত, শুল্কমুক্ত গাড়ি নেওয়া নিষেধ
বিএনপির বৈঠকে তারেক রহমান সংসদ নেতা, শুল্কমুক্ত গাড়ি নিষেধ

বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠকে তারেক রহমান সংসদ নেতা নির্বাচিত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার–১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার পর জাতীয় সংসদ ভবনে দলের সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। তিনি জুলাই জাতীয় সনদকে রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে যেভাবে স্বাক্ষর করা হয়েছে, সেটা আমরা অক্ষরে অক্ষরে প্রতিপালন করতে অঙ্গীকারবদ্ধ ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

বৈঠকে তারেক রহমান সংসদ নেতা নির্বাচিত

বিএনপির নবনির্বাচিত প্রার্থীরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তারেক রহমানকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বৈঠকে তারেক রহমান দলের সংসদ সদস্যদের জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ অনুশাসন দিয়েছেন।

  • কোনো সংসদ সদস্য শুল্কমুক্ত গাড়িসুবিধা নেবেন না।
  • কোনো সংসদ সদস্য সরকারি প্লটও নেবেন না।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আজ থেকে পরিবর্তন শুরু হলো। এই দেশে সংসদ সদস্য হলেই যে তিনি সবার ওপরে থাকবেন, সেটা আর হবে না।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সিদ্ধান্তগুলি জনগণের প্রতি দলের প্রতিশ্রুতি ও জবাবদিহিতার প্রতিফলন।

সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেননি বিএনপির সংসদ সদস্যরা

সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। শপথ না নেওয়ার কারণ সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণভোটের রায় অনুসারে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে হলে আগে সংসদে যেতে হবে। সংসদে প্রয়োজনীয় আইন ও সংবিধান সংশোধন করতে হবে।

তিনি মন্তব্য করেন, বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ পড়ানোর এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের (সিইসি) নেই। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সিইসি তাঁদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ পাঠ করানোর জন্য ‘অ্যাপ্রোচ’ করেননি। আর তাঁরাও এই শপথ নেননি।’

সাংবিধানিক পদ্ধতির প্রতি প্রতিশ্রুতি

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘সাংবিধানিকভাবে সমস্ত কিছু পরিচালিত হওয়া দরকার। আমরা এই পর্যন্ত যা এসেছি, সাংবিধানিক পদ্ধতি মেনেই এসেছি। ভবিষ্যতেও আমরা সাংবিধানিকভাবে এ রাষ্ট্রকে পরিচালনা করব।’ তিনি দলের সংসদীয় কার্যক্রমে আইন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

এই বৈঠকটি বিএনপির জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এটি দলের সংসদীয় দলের পুনর্গঠন ও নতুন দিকনির্দেশনা নির্ধারণের সূচনা করেছে। সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যে দলের সংসদীয় ভূমিকা ও জনগণের সাথে সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।