চট্টগ্রাম নগরে ভোটের হার হতাশাজনক, একটি কেন্দ্রে মাত্র ১৩.৬৫% ভোটার
চট্টগ্রাম নগরের দরবেশীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ভোটকেন্দ্রে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারের উপস্থিতি চরমভাবে নিম্নমুখী ছিল। এই কেন্দ্রে মোট ২,৯৮১ জন ভোটারের মধ্যে মাত্র ৪০৭ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, যা আনুপাতিক হিসাবে মাত্র ১৩.৬৫ শতাংশ। চট্টগ্রামের ১৪টি আসনের সব কেন্দ্রের মধ্যে এই হার সর্বনিম্ন হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।
নগর ও জেলায় ভোটের হারের ব্যাপক পার্থক্য
চট্টগ্রাম নগরের চারটি আসনেই এবার ভোটের হার জেলার আসনগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল। নগরের চারটি আসনে গড়ে ভোট পড়েছে ৪৩.৩২ শতাংশ, অন্যদিকে জেলার ১০টি আসনে ভোটের হার ছিল গড়ে ৫৪.৫৬ শতাংশ। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় থেকে পাওয়া কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
চট্টগ্রামে মোট ১৬টি সংসদীয় আসন রয়েছে। চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) ও চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে থাকলেও ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রয়েছে। বাকি ১৪ আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে, যেখানে ৬৩.৩৩ শতাংশ ভোটার অংশগ্রহণ করেছেন।
নগরের আসনগুলিতে ভোটের হার কম হওয়ার কারণ
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এবার নির্বাচন ঘিরে টানা ছুটি ছিল, যার কারণে নগরের অনেক ভোটার ছুটিতে বাড়িতে চলে গেছেন। এ ছাড়া নগরের নির্দিষ্ট একটি অংশ ভোট দিতে যেতে অনিচ্ছুক ছিল। তবে সার্বিক বিবেচনায় ভোটকেন্দ্রে ভোটের উপস্থিতি ভালো ছিল বলে মত দিয়েছেন তারা।
২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাথে তুলনা করলে দেখা যায়, তখন চট্টগ্রামের ১৪ আসনে গড়ে ৮২ শতাংশ ভোট পড়েছিল। এবারের নির্বাচনে নগর ও জেলায় ভোটের হারের পার্থক্য প্রায় ১১ শতাংশ, যেখানে ২০০৮ সালে সেটি ছিল মাত্র ৩ শতাংশ।
কেন্দ্রভিত্তিক বিশ্লেষণে ভোটার উপস্থিতির চিত্র
চট্টগ্রাম-১১ আসনে অন্তত ১১টি কেন্দ্রে ভোটের হার ২৫ শতাংশের কম ছিল। হালিশহর আহমাদ মিয়া সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের একটি কেন্দ্রে ভোটের হার ছিল মাত্র ১৮.৩৭ শতাংশ। প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের মতে, এই এলাকাগুলোতে পোশাক কারখানার শ্রমিক ও ভাসমান মানুষের সংখ্যা বেশি, যারা ভোটার হলেও অন্য জায়গায় বসবাস করেন, ফলে ভোটকেন্দ্রে তাদের উপস্থিতি কম ছিল।
নগরের সিএমপি স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে মাত্র ২৪ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. রিয়াদ হোসেন জানান, এই কেন্দ্রে অধিকাংশ ভোটার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য বা সরকারি কর্মকর্তা, যারা বদলির কারণে চট্টগ্রামে নেই।
রিটার্নিং কর্মকর্তার বক্তব্য
নগরের তিন আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা এবার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলাম, যাতে ভোটাররা নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট দিতে পারেন। নগরের ভাসমান মানুষের সংখ্যা বেশি, অনেকের স্থায়ী ঠিকানা জেলায় বা উপজেলাগুলোতে। এ ছাড়া লম্বা ছুটি ছিল। কী কারণে মানুষ আসেনি সেটি খুঁজে বের করা হচ্ছে।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন নগরের চারটি আসনের অন্তত ৩০ থেকে ৩৫টি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি দেখা গেলেও দুপুরের পর উপস্থিতি কমে যায়। ২০০৮ সালের নির্বাচনের তুলনায় এবার ভোটার উপস্থিতির হার নগরে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষণের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
