বটল-গ্রিন জার্সি পরে ত্রয়োদশ সংসদে শপথ নিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ
আলোচিত বটল-গ্রিন রঙের '১০ নম্বর জার্সি' পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন হাসনাত আবদুল্লাহ। জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তিনি এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় এই জার্সিটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল, এবার তিনি একই পোশাকে সংসদ সদস্যের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।
সংসদ সদস্য হিসেবে শপথগ্রহণ
মঙ্গলবার বেলা ১টা ২০ মিনিটের পর জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহসহ দলটির ছয় নবনির্বাচিত প্রার্থী। পরবর্তীতে তাঁরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথবাক্য পাঠ করেন। এই অনুষ্ঠানটি সংসদীয় গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
নির্বাচনী ফলাফল ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ আসনে জয়ী হন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমর্থনে এনসিপির দলীয় প্রতীক শাপলা কলি নিয়ে নির্বাচন করেন। হাসনাত আবদুল্লাহ মোট ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৮৩টি ভোট পান, যা একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যা। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি-সমর্থিত গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী জসিম উদ্দিন, যিনি ট্রাক প্রতীকে ৪৯ হাজার ৮৮৫ ভোট পেয়েছিলেন।
জার্সির বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও তাৎপর্য
হাসনাত আবদুল্লাহ আজ শপথ অনুষ্ঠানে তাঁর বটল-গ্রিন রঙের আলোচিত জার্সিটি পরিধান করেন। জার্সিটির সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো সুস্পষ্টভাবে দেখা যায়, যা তাঁর শিক্ষাগত পটভূমির প্রতীক। ইংরেজিতে লেখা আছে বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর বিভাগের নাম—'ইংলিশ'। জার্সির পেছনে ইংরেজিতে তাঁর নাম (হাসনাত) লেখা রয়েছে, এবং জার্সি নম্বরটি ১০। এই জার্সিটি শুধু একটি পোশাক নয়, বরং এটি একটি রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রতীক হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
এই ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অনন্য অধ্যায় সংযোজন করেছে, যেখানে ব্যক্তিগত স্টাইল ও রাজনৈতিক পরিচয় একাকার হয়ে গেছে। হাসনাত আবদুল্লাহর এই সিদ্ধান্তটি তাঁর অনুসারীদের মধ্যে ব্যাপক সমর্থন ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
