এনসিপি নেতাদের শপথগ্রহণ নিয়ে বিভ্রান্তি ও মতপার্থক্য
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) তিন শীর্ষ নেতা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথগ্রহণ ইস্যুতে দুই ধরনের মতামত দিয়েছেন, যা রাজনৈতিক মহলে এক ধরনের ধূম্রজাল সৃষ্টি করেছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রথমে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে স্ট্যাটাস দেন ১১ দলীয় জোটের শরিক এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে মতবিরোধ
প্রথম স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, গণভোটের প্রথমেই জনরায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নতুন সংসদের যাত্রা। কিছুক্ষণ পর আরেক স্ট্যাটাসে তিনি জানান, আইন অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ায় কোনও শপথ নেবে না ১১ দলীয় জোট। একই কথা জানান, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ আসন থেকে নির্বাচিত আব্দুল হান্নান মাসউদ।
তবে পরক্ষণেই তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে স্ট্যাটাসে জানানো হয়— তারা সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ উভয় শপথই নিতে যাচ্ছেন। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, জনরায়ের সাথে প্রতারণামূলক অবস্থান নেওয়ার প্রতিবাদ স্বরূপ গঠিত হতে যাওয়া বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাময়াত-এনসিপি নেতৃত্বাধীন ১১দলীয় জোট।
অন্যান্য নেতাদের অবস্থান
একই ধরনের স্ট্যাটাস দেন দলের যুগ্ম সদস্য সচিব ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন। তিনি লিখেন, জনগণ জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য আমাদেরকে ম্যান্ডেট দিয়েছে, এজন্য আমরা দুটি শপথই নিচ্ছি। বিএনপি ক্ষমতামুখী দল হিসেবে শুধু সরকার গঠনের শপথ নিয়ে গণরায় উপেক্ষা করেছে।
আলোচনার মধ্যেই সর্বশেষ নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে স্ট্যাটাস দেন দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেন, আকাঙ্ক্ষা ও জনরায়ের প্রতি সম্মান জানাতে সংবিধান সংস্কার পরিষদসহ সংসদ সদস্য হিসেবে পর পর দুইটি শপথ নিচ্ছেন এনসিপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যসরা। সেইসঙ্গে গণভোটের রায় না মেনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ায় আজ বিকালে অনুষ্ঠেয় মন্ত্রিপরিষদের শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার দল।
পটভূমি ও অন্যান্য দলের অবস্থান
প্রসঙ্গত, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে সকালে প্রথমে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হইনি। তাই এ হিসেবে আমরা শপথ নেবো না। এ বিষয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের জানিয়েছিলেন, বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিলে তারাও সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন না। যদিও পরে জামায়াতের নির্বাচিত সদস্যরাও শপথ নিয়েছেন।
এই বিভ্রান্তি ও মতপার্থক্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে, যা ভবিষ্যত রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
