খেলাফত মজলিসের অভিনন্দন ও ক্ষোভ: তারেক রহমানকে অভিনন্দন, মামুনুল হকের ফলাফলে কারচুপির অভিযোগ
খেলাফত মজলিসের অভিনন্দন ও ক্ষোভ: তারেক রহমানকে অভিনন্দন

খেলাফত মজলিসের বৈঠকে তারেক রহমানকে অভিনন্দন ও মামুনুল হকের ফলাফলে ক্ষোভ

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছে। একই সঙ্গে ‘রিকশা’ প্রতীকে বিজয়ী দুই প্রার্থীকেও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। তবে ঢাকা-১৩ আসনে দলটির আমির মাওলানা মামুনুল হকের নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নির্বাহী পরিষদের মাসিক বৈঠকে এই অভিনন্দন ও ক্ষোভের কথা জানানো হয়। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে আশার কথা

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘আশা করি, তাঁর (তারেক রহমানের) নেতৃত্বে দেশে একটি দায়িত্বশীল, স্থিতিশীল ও জনমুখী রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হবে। গণভোট-উত্তর ঘোষিত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দলীয় এজেন্ডা নয়, সুনির্দিষ্ট বিষয়ে জনগণের সরাসরি রায়কে প্রাধান্য দেওয়া হবে।’ এই বক্তব্যের মাধ্যমে খেলাফত মজলিস ভবিষ্যত রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

মামুনুল হকের ফলাফলে কারচুপির তীব্র অভিযোগ

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা-১৩ আসনে মাওলানা মামুনুল হকের নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, পরিকল্পিত ও সুসংগঠিত কারচুপির মাধ্যমে তাঁকে পরাজিত ঘোষণা করা হয়েছে। রিকশা প্রতীকের অসংখ্য বৈধ ভোট অবৈধ ঘোষণা, ফলাফলে ঘষামাজা ও ভোটের সংখ্যা পরিবর্তন করে চূড়ান্ত ফলাফল বিকৃতির মাধ্যমে প্রকাশ্য ‘রেজাল্ট ডাকাতি’ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও দাবি করা হয়, ‘অধিকাংশ কেন্দ্রে রিকশা প্রতীক এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত পাওয়ার পরই ফলাফল লেখায় কারচুপি করা হয়। রাত ১১টার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমের অনলাইন মাধ্যমে মামুনুল হকের বিজয়ের সংবাদ প্রচারের কিছুক্ষণের মধ্যেই সংশোধিত ফলাফল পাঠানো হয়, যা গভীর ষড়যন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ।’

তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপের দাবি

এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় আদালত ও আন্দোলন—উভয় পথ বেছে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বলা হয়েছে, সারা দেশে তাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। অবিলম্বে এসব সহিংসতা বন্ধ ও জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ

দলের আমির মাওলানা মামুনুল হকের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদের সঞ্চালনায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, নায়েবে আমির মাওলানা রেজাউল করীম জালালী, মুফতি সাঈদ নূর, মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী, মাওলানা কোরবান আলী কাসেমী, মাওলানা মাহবুবুল হক, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ ও মাওলানা হানজালা প্রমুখ নেতা উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকে নির্বাচনী ফলাফল ও ভবিষ্যত কর্মপন্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।