প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মাদ ইউনূসের বিদায়ী ভাষণ: 'আজ আমি বিদায় নেবার জন্য উপস্থিত হয়েছি'
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের বিদায়ী ভাষণ: 'আজ বিদায় নেবার জন্য উপস্থিত'

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মাদ ইউনূসের বিদায়ী ভাষণ: 'আজ আমি বিদায় নেবার জন্য উপস্থিত হয়েছি'

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মাদ ইউনূস সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় জাতির উদ্দেশ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদায়ী ভাষণ প্রদান করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, 'অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আজ আমি আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নেবার জন্য উপস্থিত হয়েছি।' এই ভাষণে তিনি বিগত ১৮ মাসের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতের জন্য আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রশংসা

ড. ইউনূস তার বক্তব্যে দীর্ঘ ১৭ বছর পর অনুষ্ঠিত উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচনের সফলতা নিয়ে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, 'এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ, ভোটার, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্মিলিতভাবে একটি প্রশংসনীয় নজির সৃষ্টি করেছে।' তিনি আরও যোগ করেন যে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নির্বাচন কেমন হওয়া উচিত—এই নির্বাচন তার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকবে।

দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রাক্কাল

প্রধান উপদেষ্টা তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রাক্কালে তিনি এই বিদায়ী ভাষণ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, 'প্রিয় দেশবাসী, বিগত ১৮ মাস আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন শেষে, আজ আমি আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নেবার জন্য উপস্থিত হয়েছি।' এই সময়ে তিনি দেশের অগ্রগতি এবং চ্যালেঞ্জগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

৫ আগস্টের স্মৃতি এবং জুলাই সনদের গুরুত্ব

ড. ইউনূস বিদায়ের দিনে ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক মুহূর্তের কথা স্মরণ করে বলেন, 'কী মহা মুক্তির দিন ছিল সেদিনটি! সে কী আনন্দের দিন!' তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, তরুণ ছাত্রছাত্রীরা দৈত্যের গ্রাস থেকে দেশকে মুক্ত করেছে, কিন্তু দেশ তখন অচল অবস্থায় ছিল। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে জুলাই সনদের কথা উল্লেখ করেন, যা গণভোটে বিপুল ভোটের মাধ্যমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ড. ইউনূস দৃঢ়ভাবে মত প্রকাশ করেন যে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সব পথ চূড়ান্তভাবে বন্ধ হয়ে যাবে, যা দেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তি মজবুত করবে।

এই ভাষণে ড. মুহাম্মাদ ইউনূস বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও শান্তিপূর্ণ পরিবর্তনের প্রতি তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন, যা জাতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।