ফেনীর ফুলগাজীতে দোকান ভাঙচুরের অভিযোগে কৃষক দল নেতা মো. সুমনকে অব্যাহতি
দোকান ভাঙচুর অভিযোগে কৃষক দল নেতা অব্যাহতি

ফেনীর ফুলগাজীতে দোকান ভাঙচুরের অভিযোগে কৃষক দল নেতার অব্যাহতি

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের চারটি দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠার পর কৃষক দলের এক নেতাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটায় দলটি এই সিদ্ধান্ত নেয়। অব্যাহতি পাওয়া নেতা হলেন মো. সুমন, যিনি মুন্সিরহাট ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

দলীয় বিজ্ঞপ্তি ও অভিযোগের বিবরণ

ফুলগাজী উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি মো. আবু আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন রিয়াজ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মো. সুমনকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা–পরিপন্থী কর্মকাণ্ড ও সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পদ ও কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও দলীয় সূত্র অনুযায়ী, গতকাল দুপুরে ফুলগাজী উপজেলার মুন্সিরহাট বাজারের পোস্ট অফিস রোডে অবস্থিত জামায়াত নেতা আনোয়ার হোসেনের ‘আনোয়ার ফ্যাশন সুজ’ ও ‘ভাই ভাই ক্রোকারিজ’ নামের দুটি দোকানে হামলার অভিযোগ ওঠে। জামায়াতের দাবি, এ ঘটনায় কৃষক দলের নেতা মো. সুমন এবং যুবদলের দুজন সদস্য জড়িত ছিলেন। একই সময়ে বাজারের আরও দুটি দোকানে ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

মামলা ও পুলিশের তদন্ত

এ ঘটনায় জামায়াত কর্মী আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এরপরই কৃষক দল থেকে মো. সুমনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান জানান, হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তিনি বলেন, ‘মো. আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিএনপি নেতাদের প্রতিক্রিয়া

হামলা বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনী-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য মুন্সী রফিকুল আলম বলেন, ‘নির্বাচনের পরদিন ফুলগাজী উপজেলার মুন্সিরহাট বাজারে দোকান ভাঙচুরের ঘটনা শুনে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দোকান মালিক আইনগত ব্যবস্থা নিতে চাইলে নিতে পারেন। আমাকে কে ভোট দিয়েছে, কে দেয়নি, তা আমি পার্থক্য করিনি। এ এলাকায় আমি নির্বাচিত হয়েছি। এখন সবাই মিলে এলাকার উন্নয়ন করতে হবে।’

ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবুল হোসেনও বলেন, ‘দলের নাম ব্যবহার করে যারাই অপকর্ম করবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কৃষক দল নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি।’

এই ঘটনা ফেনী জেলার রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। পুলিশের তদন্ত চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।