নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত সংসদ সচিবালয়
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের জন্য সংসদ সচিবালয় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে এই অনুষ্ঠান আয়োজনের লক্ষ্যে শুক্রবার দিনভর বৈঠক করেছেন সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বৈঠকে শপথের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্তটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে প্রটোকল, নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় সেবার বিষয়গুলো অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তুতির বিস্তারিত বিবরণ
সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও শাখা যৌথভাবে কাজ করছে, বিশেষ করে প্রটোকল ও নিরাপত্তা থেকে শুরু করে অতিথি সেবা এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে। ইতোমধ্যে সংসদ ভবনের ভেতর ও বাইরে পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং অবকাঠামোগত প্রস্তুতির কাজ শেষ হয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে গেজেট প্রকাশ এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরামর্শের পর শপথ অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত প্রস্তুতি হবে।
সংবিধানিক প্রক্রিয়া ও সম্ভাব্য শপথকারী
সংবিধানের ১৪৮-এর ২ অনুচ্ছেদ এবং ২(ক) অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতা মাথায় রেখে সব প্রশাসনিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে, যাতে কোনো ধরনের সাংবিধানিক সংকট ছাড়াই নতুন সংসদ যাত্রা শুরু করতে পারে। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। আগামী সোমবার তিনি শপথবাক্য পাঠ করাতে পারেন।
এর আগে সংসদ সচিবালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, বর্তমানে স্পিকারের পদ শূন্য এবং ডেপুটি স্পিকার কারাগারে থাকায় সংবিধানের বিশেষ বিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন শপথ করাতে পারেন। সংবিধানের ১৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাধারণত বিদায়ি স্পিকার নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করান। তবে ১৪৮(২ক) অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে যদি স্পিকার বা তার মনোনীত ব্যক্তি শপথ না পড়ান, তবে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে এই দায়িত্ব পালন করতে হবে।
অতিরিক্ত সংবিধানিক বিধান
এছাড়া সংবিধানের ৩ নম্বর তফসিল অনুযায়ী, বিশেষ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে তার মনোনীত ব্যক্তি শপথ পড়াতে পারবেন। জাতীয় সংসদ পরিচালিত হয় যে কার্যপ্রণালি বিধি অনুসারে, সেখানে দ্বিতীয় অধ্যায়ের ৫-এর ১ দফায় রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তির শপথ পড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংবিধানের ১৪৮(১) অনুচ্ছেদের ২(ক) দফা অনুসরণ করে সিইসিকে এ দায়িত্ব দিতে চাইলেও এক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির মতামত নিয়ে আদেশ জারি করতে হবে। তারা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে সুস্পষ্ট সমাধান আমাদের সংবিধানেই দেওয়া আছে। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতেও এ বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া আছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নির্বাচন ফলাফল
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে স্পিকারের পদ থেকে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর পদত্যাগ এবং ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু কারাগারে থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতে এই সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা ভাবা হচ্ছে। এর আগে বৃহস্পতিবার উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ২৯৯টি আসনে একটানা ভোটগ্রহণ চলে। নির্বাচনে ২১১টি আসনে জয়ী হয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।
তবে উচ্চ আদালতে মামলা অনিষ্পন্ন থাকায় দুটি আসনে গেজেট আপাতত হচ্ছে না। ৬৮টি আসনে জয়ী হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন অর্জন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি, খেলাফত মজলিস ১টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি, গণসংহতি আন্দোলন ১টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি ১টি, গণঅধিকার পরিষদ ১টি আসন পায়। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়লাভ করেন।
