নারায়ণগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ, পুলিশ ও প্রশাসন নীরব
নারায়ণগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের ওপর হামলা, অভিযোগ অস্বীকার

নারায়ণগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেনের পক্ষে কাজ করায় তার কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা ও বাড়িঘরে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত বন্দরের একরামপুর, নূরবাগ ও মুছাপুর ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগের বিবরণ

স্বতন্ত্র প্রার্থীর ছেলে মাহমুদুল হাসান শুভ অভিযোগ করেন যে, আসনটিতে বিজয়ী ধানের শীষের প্রার্থী আবুল কালামের কর্মী-সমর্থকরা এ হামলা চালিয়েছেন। তিনি বলেন, শুক্রবার দুপুরে বন্দরের একরামপুর এলাকায় ইস্পাহানি বাজারে শামীম নামে একজন কর্মীকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে এবং তার বাড়িঘরেও হামলা চালানো হয়েছে। একই এলাকার আনোয়ারকে মারধর করা হয়েছে এবং একটি রিকশার গ্যারেজে ভাঙচুর করা হয়েছে। নূরবাগ ও মুছাপুর ইউনিয়নের কয়েকটি জায়গাতেও তাদের কর্মী-সমর্থকদের মারধর করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

ভুক্তভোগীর প্রতিক্রিয়া

হামলার শিকার শামীম মোবাইল ফোনে জানান, তিনি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে চান না এবং নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। তার এই অবস্থা ঘটনার গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

অভিযোগ অস্বীকার

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আবুল কালামের ছেলে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক সিটি কাউন্সিলর আবুল কাউসার আশা বলেন, এগুলো সব মিথ্যা অভিযোগ এবং ধানের শীষের কোনো কর্মী-সমর্থক এসব ঘটনায় জড়িত নন। তিনি দাবি করেন যে, তারা সব ভিন্নমতের প্রতি সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করছেন এবং ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীও ছিলেন না।

পুলিশ ও প্রশাসনের বক্তব্য

বন্দর থানার ওসি গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, একরামপুরের ঘটনাটিতে পুলিশ গিয়েছিল এবং বিষয়টিকে পারিবারিক দ্বন্দ্ব হিসেবে পাওয়া গেছে। তবে তিনি অভিযোগ দাখিল করতে বলেছেন এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। মুছাপুর ও অন্যান্য স্থানের ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, পুলিশ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্বে রয়েছেন, কিন্তু তিনি তাদের মাধ্যমে এমন কোনো অভিযোগ পাননি। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়

পরিস্থিতির মূল্যায়ন

এ ঘটনা নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষ থেকে হামলার অভিযোগ উঠলেও, বিজয়ী প্রার্থীর দল তা অস্বীকার করছে। পুলিশ ও প্রশাসন এখনো বিষয়টি তদন্ত করছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর এমন ঘটনা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্ন তুলছে।