নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় হাতিয়ার মানুষ ভীত: হান্নান মাসউদের অভিযোগ
হাতিয়ায় নির্বাচন পর সহিংসতা, হান্নান মাসউদের অভিযোগ

নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় হাতিয়ার মানুষ ভীত: হান্নান মাসউদের অভিযোগ

দেশের দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার মানুষ নির্বাচনের পর আনন্দ-উল্লাসের পরিবর্তে ভীত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের বেসরকারিভাবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলা সদরে এনসিপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ

হান্নান মাসউদ বলেন, নির্বাচনে বিজয়ের পর যেখানে সাধারণ মানুষের আনন্দ করার কথা ছিল, সেখানে কয়েকদিন ধরে পুরো হাতিয়াজুড়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। মানুষের বসতবাড়ি পোড়ানো, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং সাধারণ মানুষকে মারধরের মতো একের পর এক অপকর্ম সংঘটিত হয়েছে। তার ভাষ্য মতে, হাতিয়ার ইতিহাসে কোনো নির্বাচনের পর এত ব্যাপক সহিংসতার নজির নেই। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের এলাকায় এনে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা হয়েছে।

ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান

হান্নান মাসউদ দাবি করেন, গত কয়েক দিনে প্রায় সাড়ে চারশ’ বাড়িঘরে হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং শতাধিক দোকানে লুটপাট ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, সকালে হাসপাতালে গিয়ে দেখি, জুলাই অভ্যুত্থানের মতো আহত মানুষ পড়ে আছে। আমরা হাতিয়ার মানুষ এ তাণ্ডব থেকে মুক্তি চাই

ব্যক্তিগত হামলার অভিযোগ

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোটের দিন সকালে তার গাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ সময় তার স্ত্রী, বাবা ও ভাইদের ওপর একাধিকবার সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে বলেও দাবি করেন। কয়েকজন সাংবাদিককেও পিটিয়ে আহত করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। এসব হামলার নেতৃত্ব ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম দিয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জনগণের প্রতিরোধ ও আহ্বান

হান্নান মাসউদ দাবি করেন, সব সহিংসতা ও ভয়ভীতির মধ্যেও হাতিয়ার জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে সন্ত্রাস ও সহিংসতার জবাব দিয়েছেন। তিনি প্রশাসনের প্রতি দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানান। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর এই ঘটনাগুলো স্থানীয় শান্তি-শৃঙ্খলার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।