জামায়াত আমিরের আত্মবিশ্বাস: ভোটে ১১-দলীয় ঐক্য এগিয়ে, ফলাফল মেনে নেবেন
রাজধানীর মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে (বালক শাখা) ভোট দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মিরপুরের একটি রেস্টুরেন্টে ঢাকা-১৫ আসনের উদ্যোগে নির্বাচনের ভোট গ্রহণপরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘জনগণের ওপর আমাদের আস্থা আছে। আমরা আশা করি, জনগণ সঠিক সিদ্ধান্তই ব্যালটের মাধ্যমে জানাবেন।’
প্রাথমিক ফলাফলে ১১-দলীয় ঐক্যের অগ্রগতি
শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, এখন পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যেসব ফলাফল পাওয়া গেছে, তাতে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যেসব ফলাফল এসেছে, বেশির ভাগ জায়গায় লক্ষ্য করা যাচ্ছে, আলহামদুলিল্লাহ আমাদের ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের যাঁরা ক্যান্ডিডেট ছিলেন, তাঁরা এগিয়ে আছেন।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘সারা দেশে নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল আসতে শুরু করেছে। আমাদের ধারণা, রাত ১১টা পর্যন্ত হয়তোবা এটা একটা শেপ নিতে পারে। এখনই অগ্রিম কিছু বলা আমাদের জন্য সমীচীন নয়।’
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া
গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তবে তিনি সতর্ক করে দেন, সেই স্বাধীনতা দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য হতে হবে। তিনি বলেন, ‘দেশের সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীনতার কোনো ক্ষতি হয়, এমন কোনো স্বাধীনতা ব্যক্তিপর্যায়ে হোক, সমষ্টি পর্যায়ে হোক কারও জন্যই কাম্য নয়।’
নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করায় দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই নির্বাচনকে সামনে রেখে অনেক শঙ্কা-আতঙ্ক ছড়ানো হয়েছিল। কিন্তু সবকিছুর পরে নির্বাচনটা হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। বড় কোনো ক্যাজুয়ালটি হয়নি।’
ফলাফল মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি
ফলাফল মেনে নেওয়া না–নেওয়া বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা মনে করি, এখন পর্যন্ত ভোট যেভাবে হয়েছে, ফলাফলে যদি একই ধারা অব্যাহত থাকে, কোনো ইন্টারফেয়ারেন্স না হয় বড় ধরনের, কেউ মেনে নিক না নিক, আমরা নেব ইনশা আল্লাহ।’
নিজের আসনের ফলাফলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই আসনের ভালো-মন্দ বিষয়ে আমি যদি নির্বাচিত হই, আল্লাহ–তাআলার ইচ্ছায়, তাহলে আমি তাঁদের সবাইকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করব ইনশা আল্লাহ।’
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও রাজনৈতিক সহযোগিতা
এবার নির্বাচনে যত পরিমাণ পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে এসেছেন, অতীতের কোনো নির্বাচনে এত পরিমাণ পর্যবেক্ষক আসেননি বলে জানান শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘উল্লেখযোগ্য দেশ ও অঞ্চল—সবাই পর্যবেক্ষক পাঠিয়েছে। এটাও কিন্তু নির্বাচন হওয়ার পক্ষে ভূমিকা রেখেছে।’
জামায়াত সরকার গঠন করার সুযোগ পেলে সব দলকে পাশে চাইবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা সাহায্যকারী হিসেবে পাশে পেতে চাইব। এটা আমাদের আকাঙ্ক্ষা থাকবে। আমরা দিল খুলে তাঁদের আহ্বান জানাব।’
গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির আহ্বান
ঢাকা-১৫ আসনে যুবদলের আহ্বায়কসহ আরেকজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াত আমির তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিষয়ে বলেন, ‘যখন আমরা নির্বাচনের এই লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছি, জয় একজনেরই হবে, বাকিরা এটা মেনে নেবে, এটাই স্বাভাবিক। আমরা একজনের জয় হলেও আমি মনে করি, এটা আমাদের সবার জয়।’
