জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের দাবি: জনগণের সরকার চাই, ভোট শান্তিপূর্ণ হোক
জামায়াত আমির: জনগণের সরকার চাই, ভোট শান্তিপূর্ণ হোক

জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের ব্রিফিং: জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা চাই, সরকারটা হোক জনগণের, কোনো দলের নয়, ব্যক্তির নয়, পরিবারের নয়। দল, ব্যক্তি ও পরিবারের গণ্ডি অতিক্রম করে ১৮ কোটি মানুষের সরকার কায়েম হবে আগামীকাল থেকে—সেটাই আমরা আশা করি।’ আজ বৃহস্পতিবার বেলা ২টায় ঢাকা-১৫ আসনে নিজের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ভোটের পরিবেশ ও অনিয়মের অভিযোগ

শফিকুর রহমান ভোটের পরিবেশ নিয়ে বলেন, ‘ভালো নির্বাচন হলেই একটা ভালো সরকার তৈরি হবে। যে সরকার এ দেশের মানুষকে নিয়ে ভাববে। যে সরকার হবে জনগণের সরকার। আর জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে যদি কোনো সরকার গঠিত হয়, তাহলে ওই সরকার জনগণের দুঃখ-দরদ বুঝবে না এবং জনগণের সঙ্গে তাদের কোনো সেতুবন্ধন থাকবে না।’ তিনি জানান, আজ সকালে মিরপুরের ৬০ ফিট এলাকায় মনিপুর উচ্চবিদ্যালয়ের বালক শাখা কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন এবং বেশিরভাগ কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক ছিল।

তবে, জামায়াত আমির মনিপুর উচ্চবিদ্যালয়ের কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘এই আসনের (ঢাকা-১৫) সর্বাধিকসংখ্যক ২৬ হাজার ভোট রয়েছে ওই কেন্দ্রে। সেই জায়গায় হঠাৎ করে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দলের কিছু লোক বেপরোয়াভাবে ঢুকে পড়েন। তারা ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং অহেতুক হস্তেক্ষেপ করেন। এমনকি আমাদের যারা ভোটার এবং সমর্থক, তাদেরকে শারীরিকভাবে নাজেহাল করেন।’

সেনা কর্মকর্তার ভূমিকা ও ভবিষ্যত আশঙ্কা

খবর পেয়ে শফিকুর রহমান ওই কেন্দ্রে গিয়ে দেখেন যে সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বিষয়টি হ্যান্ডেল করছেন। তিনি বলেন, ‘আমি তখন তাঁকে (সেনা কর্মকর্তা) বলেছি যে ভোট আওয়ার শেষ হওয়ার পরে শুধু ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরকারের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন আর যারা বিভিন্ন প্রার্থীর এজেন্ট আছেন, তার বাইরে যেন কেউ ঢুকতে না পারে। ভেতরের পরিবেশটা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাইরের কেউ যেন অহেতুক জটলা এবং টেনশন সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেবেন।’

জামায়াতের আমির আরও অভিযোগ করেন, ‘এ পর্যন্ত সারা দেশের যে খবর আমরা পেয়েছি, বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি–দলীয় যারা প্রার্থী, তাদের কর্মী-সমর্থকরা বেশ কিছু জায়গায় সমস্যা তৈরি করেছে।’ তিনি ভোট শান্তিপূর্ণ হওয়ার প্রত্যাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রত্যেকটি মানুষ পছন্দমতো ভোট দেবেন। ভয়ের সংস্কৃতি যেন তৈরি না হয়।’

শফিকুর রহমান সতর্ক করে দেন যে ভোট শেষ হওয়ার পর গণনার সময় কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রক্রিয়াই কেবল প্রকৃত জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে, যা দেশের সমস্ত নাগরিকের কল্যাণ নিশ্চিত করবে।