নাতির কোলে চড়ে ৯০ বছর বয়সি দাদার ভোট প্রদান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় এক মর্মস্পর্শী দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছেন স্থানীয়রা। ৯০ বছর বয়সি দাদা শাহজাহান মোল্লা নাতিদের কোলে চড়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তার মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার নয়াদিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে।
দীর্ঘদিন বাড়িতে আবদ্ধ থাকার পর ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের দরুইন গ্রামের বাসিন্দা শাহজাহান মোল্লা বয়সের ভারে সম্পূর্ণরূপে নুয়ে পড়েছেন। তিনি কোনোমতে বসতে পারলেও দাঁড়ানো বা হাঁটাচলার জন্য অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। চিকিৎসকের কাছে যাওয়া ছাড়া গত বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি বাড়ি থেকে বের হননি। তবে ভোটের দিন সকালেই তিনি ভোট দেওয়ার দৃঢ় ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
নাতিদের সহায়তায় ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি
দাদার এই আবদার শুনে নাতি স্বাধীন ও দুলাল তাকে কোলে করে উপজেলার নয়াদিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবস্থিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যান। শারীরিক অক্ষমতা সত্ত্বেও শাহজাহান মোল্লা তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে সক্ষম হন।
ভোট প্রদানের পর শাহজাহান মোল্লা বলেন, "জীবনের শেষ সময়ে নাতিদের কোলে চড়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিলাম। খুব খুশি লাগছে। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছি।" তার কথায় ফুটে উঠেছে একজন নাগরিকের গণতান্ত্রিক দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেম।
নাতির ভাষ্যে ঘটনার বিবরণ
নাতি স্বাধীন জানান, ভোটের উৎসবমুখর পরিবেশের খবর শুনে ঘরে শুয়ে থাকা অসুস্থ দাদা শাহজাহান ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এরপর তিনি তার দাদাকে নয়াদিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিয়ে যান এবং কোলে তুলে নিয়ে ভোট প্রদান করান। এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন ও পারিবারিক বন্ধনের এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছে।
এই ভোট প্রদান কেবল একটি ব্যক্তিগত কাজই নয়, বরং এটি সমগ্র সমাজের জন্য একটি অনুপ্রেরণাদায়ক ঘটনা। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও বয়সের চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও একজন নাগরিক কীভাবে তার অধিকার প্রয়োগে সচেষ্ট হতে পারেন, শাহজাহান মোল্লার এই কাজ তারই প্রমাণ। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় এই ঘটনা নির্বাচনী দিনের একটি স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে ইতিহাসে স্থান পাবে।
