সৈয়দপুর বিমানবন্দরে জামায়াত নেতার কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা উদ্ধার, অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে
সৈয়দপুরে জামায়াত নেতার কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা উদ্ধার, হাসপাতালে

সৈয়দপুর বিমানবন্দরে জামায়াত নেতার কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা উদ্ধার, অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি

সৈয়দপুর বিমানবন্দরে প্রায় অর্ধকোটি নগদ টাকাসহ আটক ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) টাকাসহ আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আটকের ঘটনা ও পুলিশের বক্তব্য

বুধবার বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে বেলাল উদ্দিনকে প্রায় ৫০ লাখ টাকাসহ সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে আটকের কথা পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, বিমানযোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর নিরাপত্তা তল্লাশিকালে তার কাছে থাকা বিশাল অঙ্কের নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ সময় তাকে হেফাজতে নেওয়া হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাকে নিকটস্থ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। নীলফামারী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) শেখ জাহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "প্রায় ৫০ লাখ টাকা নগদসহ তাকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে পাঠানো হয়। বিষয়টির তদন্ত চলছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।"

জামায়াতের দাবি ও প্রতিক্রিয়া

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন যে এই টাকা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট নয়, বরং গার্মেন্টস ব্যবসার টাকা। এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, "ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমিরের কাছ থেকে টাকা উদ্ধারের ঘটনা ভিন্নখাতে নেওয়ার চক্রান্ত চলছে। এই অর্থ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট নয়, তার ব্যবসার টাকা।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে এই ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হতে পারে, যা ন্যায়বিচারবিরোধী। জামায়াতের পক্ষ থেকে আইনি সহায়তা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনার তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। টাকার উৎস এবং এর ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। নীলফামারী ও ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশের সমন্বয়ে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হতে পারে বলে খবর রয়েছে।

বেলাল উদ্দিনের স্বাস্থ্য অবস্থা নিয়ে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, তিনি এখন চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল। তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ পুনরায় শুরু হতে পারে তার সুস্থ হওয়ার পর। এই ঘটনা স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে।