জামায়াতের আমির আটক: 'সাজানো নাটক' দাবি, পুলিশের বক্তব্য
ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিনকে অর্ধকোটি টাকাসহ আটকের ঘটনাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর 'সাজানো নাটক' বলে অভিহিত করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ তোলেন।
জামায়াত নেতার বক্তব্য
এহসানুল মাহবুব জোবায়ের দাবি করেন, ঠাকুরগাঁও জামায়াতের আমির একজন ব্যবসায়ী এবং এয়ারপোর্টের মতো নিরাপদ স্থানে এমন ঘটনা সাজানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, "জামায়াতে ইসলামীকে বিতর্কিত করার জন্য এ ধরনের অপপ্রয়াস চালানো হয়েছে।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একদল সন্ত্রাসী শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করতে চাইছে এবং ভোটকেন্দ্রে জনগণের শান্তিপূর্ণ যাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে নানা চক্রান্ত চলছে। গত মঙ্গলবার তাদের আমিরের নির্বাচনী এলাকায় বুথ ভাঙচুরের পাশাপাশি সারা দেশে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটছে বলে তিনি জানান।
এহসানুল মাহবুব বলেন, "আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তাদের এজেন্টদের সরিয়ে দেওয়া এবং হামলা করা হচ্ছে। প্রশাসনের কিছু অংশ একদিকে ঝুঁকে পড়েছে বলে আমাদের ধারণা।" তিনি দাবি করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ আচরণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ইচ্ছাকৃতভাবে এ ধরনের নাটক সাজানো হচ্ছে।
পুলিশের বর্ণনা
অন্যদিকে, পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বেলা ১২টায় সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশ বেলাল উদ্দিনকে আটক করে। মাওলানা বেলাল উদ্দিন ঢাকা থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় তার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে থামায়।
তল্লাশিকালে তার কাছে থাকা একটি ব্যাগ থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেই ওই ব্যাগে ৫০ লাখ টাকা থাকার কথা স্বীকার করেন। নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছে।
তার ব্যাগটি সবার উপস্থিতিতে খোলা হবে বলে জানান তিনি। আপাতত তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সৈয়দপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন জানান, ঘটনার বিস্তারিত তথ্য পরে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।
আটক ব্যক্তির পরিচয়
আটক বেলাল উদ্দিন প্রধান ঠাকুরগাঁও শহরের পূর্ব হাজীপাড়া (স্টেডিয়াম সংলগ্ন) এলাকার বাসিন্দা। তিনি পেশায় স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ নিয়ে আরও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে বলে দলীয় মুখপাত্র জানিয়েছেন, যেখানে কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
এ ঘটনায় জামায়াতের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ ও সমালোচনার পাশাপাশি পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। উভয় পক্ষের দাবি ও পাল্টা দাবির মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
