নির্বাচনী প্রচারে হাদি হত্যার বিচারের প্রতিশ্রুতি: ইনকিলাব মঞ্চের জাবেরের বিশেষ মন্তব্য
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে ঢাকা-৯ আসনের প্রার্থীদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি উল্লেখযোগ্য পোস্ট দিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে প্রকাশিত এই পোস্টে তিনি হাবিবুর রশিদ হাবিব, নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী এবং মহিউদ্দিন রনির রাজনৈতিক অবস্থান ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বিষয়ে তার মতামত তুলে ধরেছেন।
প্রার্থীদের ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান ও অভিন্ন দাবি
জাবের তার ফেসবুক পোস্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এই তিন প্রার্থীর রাজনৈতিক অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন। একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী, একজন এনসিপির এবং অন্যজন বিএনপির সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। তবে তিনি বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন যে, একটি বিষয়ে তারা সকলেই অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্ত ও সাহসী অবস্থান নিয়েছেন।
হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে তাদের সোচ্চার ভূমিকা জাবেরের মতে, তারা সকলেই খুব স্পষ্টভাবে হাদি হত্যার বিচার চেয়েছেন এবং ক্ষমতায় গেলে এই হত্যার বিচার করবেন বলে জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, "হতে পারে এই অবস্থান নির্বাচনী কৌশলের অংশ, কিংবা সত্যিকার অর্থে ইনসাফ কায়েমের জন্য। কিন্তু তাদের এই সাহসী পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।"
ভোট চাওয়া নয়, সচেতনতা সৃষ্টির আহ্বান
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব তার পোস্টে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীর জন্য ভোট চাইছেন না। বরং তিনি নির্বাচকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা নিজেদের বিবেচনায় সবচেয়ে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেন। তার ভাষায়, "আমরা তাদের জন্য ভোট চাই না। আপনি অবশ্যই আপনার দৃষ্টিতে যাকে সবথেকে সৎ এবং যোগ্য মনে হবে তাকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।"
তবে জাবের একই সাথে ঘোষণা করেছেন যে, যারা হাদি ভাইয়ের হত্যার বিচারের দাবিতে সোচ্চার থাকবেন এবং ইনসাফের লড়াইয়ে অকুতোভয় ভূমিকা পালন করবেন, তাদের প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে সীমাহীন ভালোবাসা ও স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন থাকবে।
ইনসাফ প্রতিষ্ঠার দীর্ঘমেয়াদী সংগ্রামের প্রত্যয়
ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে আবদুল্লাহ আল জাবের একটি প্রেরণাদায়ক বার্তা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, "যুগ হতে যুগান্তরে আজাদির সন্তানেরা এই জমিনের সার্বভৌমত্বের জন্য, ইনসাফ কায়েমের জন্য লড়াই করেই যাবে- ইনশাআল্লাহ।" এই উক্তি তার সংগঠনের দীর্ঘমেয়াদী সংগ্রাম ও আদর্শিক অবস্থানের প্রতিফলন ঘটায়।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে এই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনী প্রচারের শেষ পর্যায়ে এই ধরনের বিবৃতি প্রার্থীদের ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে হাদি হত্যার বিচারের মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে তাদের অবস্থান সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
ঢাকা-৯ আসনে এই তিন প্রার্থী ছাড়াও আরো কয়েকজন প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। তবে ইনকিলাব মঞ্চের জাবের শুধুমাত্র এই তিনজনের বিষয়ে তার মতামত প্রকাশ করেছেন, যা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। নির্বাচনের ফলাফলই বলে দেবে, হাদি হত্যার বিচারের এই প্রতিশ্রুতি ভোটারদের সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলতে পেরেছে।
