স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জুলাই সনদের প্রতিটি জায়গায় বিএনপি ছিল, তবে কিছু বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দেওয়া হয়েছে। এখন বলা হচ্ছে সবটাই মেনে নিতে হবে, কিন্তু উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়ে তারা একমত হননি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সবকিছু সংসদের মাধ্যমেই করতে হবে।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা সভা
শনিবার (২ মে) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে জিয়া পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় মন্ত্রী বিএনপি সংস্কারের বিরোধী—এমন প্রচারণাকে বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানই দেশে প্রথম সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ
বিএনপি মহাসচিব বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ এসেছে। জুলাই সনদ ও সংবিধান নিয়ে বিতর্ক স্বাভাবিক হলেও তা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, বিতর্কে সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই; এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত অর্থনীতিকে ঠিক করা। এ অবস্থার উত্তরণে প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য।
ফ্যাসিস্ট আমলে ৮০ লাখ কোটি টাকা দেনা রেখে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্টের অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে ফেলে পুনর্গঠন করাই লক্ষ্য হওয়া উচিত।
বিশ্ববিদ্যালয়ে দলবাজি নয়, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দলবাজি করা যাবে না, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছাত্ররাজনীতিতে মেধাবীদের সম্পৃক্ত করে তা সঠিক খাতে প্রবাহিত করতে হবে, না হলে অতীতে যেমন ক্ষতি হয়েছে, ভবিষ্যতেও তেমন ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জিয়া পরিষদের নামে দোকান খোলা নয়
মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির অনেক অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন রয়েছে; নতুন করে আর সংগঠনের প্রয়োজন নেই। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জিয়া পরিষদের নামে দোকান খোলা হোক, তা চাই না। এ ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। তিনি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার উৎসাহে জিয়া পরিষদ ইতোমধ্যে কয়েকটি বই প্রকাশ করেছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত রাখা উচিত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারে অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে উদ্বেগ
সরকারে প্রবেশের পর অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির চিত্র দেখে উদ্বিগ্ন হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারে আসার পর যেদিকে তাকাই শুধু অনিয়ম, দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতি দেখতে পাই। সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এসব বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে যেখানে তদবির ছাড়া কাজ হয় না, উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রেও তদবিরের আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে—যা অত্যন্ত দুঃখজনক।



