সংসদে উত্তপ্ত বক্তৃতা: আন্দালিভ-শফিকুর বাদানুবাদ
সংসদে উত্তপ্ত বক্তৃতা: আন্দালিভ-শফিকুর বাদানুবাদ

সংসদে উত্তপ্ত বক্তৃতা: আন্দালিভ-শফিকুর বাদানুবাদ

জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি ও বিরোধী পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ‘জিয়া পরিবার থেকে মানুষকে মুক্ত করার ঘোষণা’ সংক্রান্ত একটি সংবাদ শিরোনামকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের মধ্যে এই বাদানুবাদ শুরু হয়।

এক পর্যায়ে পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এবং নিজের ওপর আসা রাজনৈতিক আক্রমণ প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা সরস মন্তব্য করে বলেন, ‘সবাই আমাকে খুব ভালোবাসে তো! তাই আমাকে নিয়ে কচলায় সবাই।’ মঙ্গলবার মাগরিবের নামাজের বিরতির পর অধিবেশন শুরু হলে আন্দালিভ রহমান পার্থ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদের কাটিং হাতে নিয়ে বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বিরোধী দলের বিভিন্ন হুমকির সমালোচনা করে কয়েকটি সংবাদের শিরোনাম পড়ে শোনান।

এর মধ্যে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের বক্তব্য হিসেবে প্রকাশিত শিরোনাম কয়েকটি হলো ‘বিএনপি ফ্যাসিবাদের রাস্তা ধরে হাঁটা শুরু করেছে'', ''বিড়ালের মতো বাঁচতে চাই না, সিংহের মতো বাঁচতে চাই''; ''সংস্কার পিছিয়ে গেলে গণ–অভ্যুত্থানের প্রস্তুতি হবে''; ও ‘জিয়া পরিবার থেকে মানুষকে মুক্ত করার ঘোষণা।'' আন্দালিভ এ পর্যায়ে হেসে বলেন, গত ১৬ বছর জিয়া পরিবার থেকে মুক্ত করতে গিয়ে শেখ হাসিনা হেলিকপ্টার দিয়ে পালিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘জিয়া পরিবার মানে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ধারক-বাহক এখন। তারা (বিরোধী দল) বলেছে, আওয়ামী লীগ সরাতে ১৬ বছর লেগেছিল, আপনাদের (বিএনপি) সরাতে ১৬ দিনও লাগবে না।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পার্থের এমন বক্তব্যে বিরোধী দলের সদস্যরা একযোগে হইচই শুরু করলে সংসদ উত্তাল হয়ে ওঠে। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বারবার হাতুড়ি পিটিয়ে সবাইকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। উত্তেজনার এক পর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান দাঁড়িয়ে বলেন, ‘পড়ছি মছিবতে। সবাই আমাকে খুব ভালোবাসে তো! তাই আমাকে নিয়ে কচলায় সবাই।’ তিনি পার্থের আনা অভিযোগকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, তিনি কখনও জিয়া পরিবার এমনকি শেখ হাসিনার পরিবার নিয়ে এ ধরনের কুরুচিপূর্ণ কথা বলেননি। বক্তব্যের মাধুর্য ছড়াতে গিয়ে তাঁর নামে যেন ‘বেঠিক চালান’ দেওয়া না হয়, সেজন্য তিনি পার্থকে অনুরোধ জানান।

জবাবে আন্দালিভ রহমান পার্থ ব্যাখ্যা দেন যে, তিনি নির্দিষ্ট করে বিরোধীদলীয় নেতার নাম বলেননি। ওই বক্তব্যটি মূলত এনসিপির এক নেতার ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, ১১-দলীয় জোট ও বিরোধীদলীয় নেতার নাম বলে বক্তব্য শুরু করলেও হাতে থাকা ক্লিপগুলোতে অনেকের কথা ছিল। এটি ভুল-বোঝাবুঝি মাত্র এবং বর্তমান ডিজিটাল যুগে কাউকে মিথ্যাভাবে দায়ী করার সুযোগ নেই। পরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদে কোনো রেফারেন্স দিতে হলে তা সুনির্দিষ্ট ও যথাযথ হতে হবে।

আলোচনায় আন্দালিভ রহমান পার্থ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সেক্টরে শুধু অব্যবস্থাপনা নয়, বরং লাগামহীন দুর্নীতি ও চুরি হয়েছে। কুইক রেন্টালের মাধ্যমে দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তিনি বিচার বিভাগ ও আমলাতন্ত্রের দলীয়করণের চিত্র তুলে ধরে বলেন, খালেদা জিয়ার রায়ের মতো বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর রায়ও হয়তো গণভবনের কোনো করিডর থেকে লেখা হয়েছিল। তিনি বিসিএস পরীক্ষায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও ঘুষ লেনদেনেরও অভিযোগ আনেন।

এদিকে আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বিএনপির কিছু সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে সেগুলোকে ‘আত্মঘাতী’ বলে অভিহিত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, একজন ঋণখেলাপি ব্যক্তিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে বসানো দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত।