সাবিরা সুলতানার পাঁচ কোটি টাকার সম্পদ, বাৎসরিক আয় ১৫ লাখ
সাবিরা সুলতানার পাঁচ কোটি টাকার সম্পদ

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবিরা সুলতানার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় দেখা যায়, তার বার্ষিক আয় আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী ১৫ লাখ ৮ হাজার ৪৫০ টাকা।

শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশা

৪৯ বছর বয়সী এ প্রার্থী উচ্চমাধ্যমিক পাস। পেশা হিসেবে তিনি ‘গৃহিণী, ব্যবসা ও সমাজসেবা’ উল্লেখ করেছেন। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে তিনটি মামলা রয়েছে, তবে আগের আটটি মামলা থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন।

বার্ষিক আয়ের খাত

হলফনামা অনুযায়ী, সাবিরা সুলতানার বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৭৭ হাজার ১৭৯ টাকা। এর মধ্যে কৃষি ও মৎস্য খাত থেকে ২ লাখ ৯১ হাজার ৫০০ টাকা, বাড়িসহ স্থাবর সম্পত্তির ভাড়া থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৭৬৫ টাকা এবং শেয়ার, সঞ্চয় বা ব্যাংক আমানত থেকে ৬ হাজার ৯১৪ টাকা। তবে সর্বশেষ আয়কর রিটার্নে তিনি ১৫ লাখ ৮ হাজার ৪৫০ টাকা আয় দেখিয়েছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অস্থাবর সম্পদ

অস্থাবর সম্পদের অর্জনমূল্য ১ কোটি ৫৮ লাখ ৬৯ হাজার ২৫৭ টাকা, যা বর্তমানে আড়াই কোটি টাকা। এর মধ্যে নগদ ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা, পাঁচ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৯৮২ টাকা, শেয়ার ৮ লাখ টাকা (বর্তমান মূল্য ৮ লাখ ৮০ হাজার), অংশীদারি ব্যবসা ১ কোটি ২৮ লাখ ৪৩ হাজার ৮৯৫ টাকা, ৩০ ভরি স্বর্ণ (অর্জনকালীন মূল্য ৫০ হাজার টাকা), ৩০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য ও ২০ হাজার টাকার আসবাব রয়েছে।

স্থাবর সম্পদ

স্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য ১ কোটি ৪৪ লাখ ৭০ হাজার ৫৭০ টাকা। এর মধ্যে ৩২ লাখ ৭১ হাজার ২৮২ টাকার কৃষিজমি (৩৭১.৫০ শতক), ৫২ লাখ ৬৭ হাজার ৯৪৫ টাকার অকৃষি জমি (৩০৭.৫১ শতক), ৪৫ লাখ টাকার ভবন এবং ২৮ লাখ ৮৯ হাজার ৮৫০ টাকার দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এসবের বর্তমান বাজারমূল্য আড়াই কোটি টাকা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাজনৈতিক পটভূমি

সাবিরা সুলতানা গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন, কিন্তু জামায়াতের মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের কাছে হেরে যান। এবার সংরক্ষিত আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাচ্ছেন। তার স্বামী নাজমুল ইসলাম যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও ব্যবসায়ী ছিলেন, যিনি ২০১১ সালে অপহরণের পর নিহত হন। স্বামীর মৃত্যুর পর সাবিরা রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং ২০১৪ সালে বড় ব্যবধানে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি।