ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সংরক্ষিত নারী আসনে ১১ দলীয় ঐক্যজোট মনোনীত প্রার্থী মনিরা শারমিন আপিল আবেদন জমা দিতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) যাচ্ছেন। রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে এনসিপির মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়েছে, দুপুর ২টায় আপিল আবেদন জমা দিতে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে যাবেন এনসিপির এই যুগ্ম আহ্বায়ক।
মনোনয়ন বাতিলের কারণ
জানা গেছে, এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিন ২০২৩ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে অফিসার (জেনারেল) হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। প্রায় দুই বছর চাকরির পর ২০২৫ সালে তিনি পদত্যাগ করেন। আরপিও-র নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি চাকরি থেকে অব্যাহতির ৩ বছর পূর্ণ না হলে কেউ সংসদ সদস্য হতে পারবেন না। এজন্যই মূলত তার মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পর মনিরা শারমিনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেন ইসির যুগ্মসচিব ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মঈন উদ্দীন খান। তিনি বলেন, সরকারি চাকরি ছাড়ার তিন বছর পার না হওয়ায় মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হলো।
আইনি ব্যাখ্যা
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২ (১) (চ) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার অযোগ্য হবেন যদি তিনি প্রজাতন্ত্রের বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের কোনো চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছেন বা অবসর নিয়েছেন এবং এই পদত্যাগ ও অবসরগ্রহণ যদি তিন বছর অতিবাহিত না হয়।
অন্যান্য প্রার্থীদের অবস্থা
এদিকে, এনসিপির আরেক নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম গত মঙ্গলবার নির্ধারিত সময়ের পরে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় তা আমলে নেননি রিটার্নিং কর্মকর্তা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটে জামায়াত জোটের ১৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। বুধবার (২২ এপ্রিল) বাছাইয়ে ১২ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়।
নির্বাচনের সময়সূচি
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ৮ এপ্রিল সংরক্ষিত নারী আসনের তফশিল দেন এএমএম নাসির উদ্দীনের নেতৃত্বাধীন ইসি। তফশিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আজ ২৬ এপ্রিল নির্বাচন কমিশনে আপিল করা যাবে। আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ ৩০ এপ্রিল। আর নির্বাচন হবে ১২ মে।



