সালাহউদ্দিন আম্মারের মায়ের আবেগঘন স্ট্যাটাস: গর্বিত বিপ্লবীর মা
সালাহউদ্দিন আম্মারের মায়ের আবেগঘন স্ট্যাটাস

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের সংগ্রামী জীবন ও রাজনৈতিক নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন তার মা রোকেয়া খানম। নিজেকে একজন ‘গর্বিত বিপ্লবীর মা’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি গত ১৭ বছরে তাদের পরিবারের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময়ের কথা তুলে ধরেন। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে তিনি এই পোস্টটি দেন।

জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি

রোকেয়া খানম তার পোস্টে গত বছরের জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি চারণ করে বলেন, ‘সালাহউদ্দিনকে নিয়ে ১৫ই জুলাই পর্যন্ত আমার অনেক বেশি চিন্তা হতো। যেদিন আবু সাঈদ শাহাদাত বরণ করলেন, সেদিনই আমি আমার একমাত্র ছেলেকে দেশের মানুষের জন্য দিয়ে দিয়েছি। আমার সন্তানকে কেউ ঘৃণা করলে সেটা দলের জন্য ঘৃণা করে, আর তাকে ভালোবাসলে দেশের জন্য ভালোবাসে।’

পরিবারের ওপর নির্যাতনের বর্ণনা

নিজের পরিবারের ওপর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বর্ণনা দিয়ে তিনি লিখেন, ‘আমি আমার জীবনে অনেক কিছু দেখেছি। আমার আপন ভাইকে বিএনপি করার কারণে উল্টো করে ঝুলিয়ে পেটাতে দেখেছি। আমার স্বামীকে জামায়াত সমর্থনের কারণে কোমরে দড়ি বেঁধে টানতে টানতে নিয়ে যেতে দেখেছি, যে নির্যাতনের জেরস্বরূপ তিনি আর সুস্থ হতে পারেননি।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শৈশব ও সংগ্রাম

সালাহউদ্দিন আম্মারের শৈশব ও সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মাত্র ১৬ বছর বয়সে এক রকম পরিস্থিতির শিকার হয়ে ২০১৮ সালে সালাহউদ্দিনকে একরকম চুপিচাপি আমার কাছ থেকে দূরে পাঠিয়ে দিয়েছি। আপনারা অনেকে তার কাজকর্মে বিরক্ত হন, আবার অনেকে পোস্ট ও কমেন্ট করেন — ২০২৪-এর আগে কোথায় ছিলি! তার কৈশোর কেড়ে নিয়েছে ফ্যাসিস্ট লীগ। শাহবাগে তার রক্তাক্ত ছবিটা দেখেও বোঝেননি আপনারা?’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আন্দোলনকালে চাপ ও হুমকি

আন্দোলন চলাকালীন পরিবারের ওপর ডিবি ও তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের চাপের কথা উল্লেখ করে রোকেয়া খানম বলেন, ‘১৬ জুলাই ২০২৪ থেকে ৪ঠা আগস্ট পর্যন্ত আমাকে আর তার বাবাকে ঘরবন্দী করে রেখেছিল লীগ আর ডিবি। তার বাবার ওষুধ পর্যন্ত নিতে দেয়নি। তাদের একটাই কথা ছিল — সালাহউদ্দিনকে যেন ফিরিয়ে নিয়ে আসি, না হলে আমার স্বামীকে মেরে ফেলবে। আমি সেদিনও তাকে থামতে বলতে পারিনি। আপনাদের এই হুমকির সাথে আমি পরিচিত।’

আইনি পদক্ষেপের পরিকল্পনা

নিরাপত্তার চেয়ে ইতিহাসকে সাক্ষী রাখতেই আইনি পদক্ষেপের কথা ভাবছেন জানিয়ে তিনি লিখেন, ‘প্রয়োজন হলে জিডি করব, তবে নিরাপত্তার জন্য নয়; জাহেলি যুগের মতো ইতিহাসের সাক্ষী থাকার জন্য। আমার পরিবারের কোনোদিন কিছু হলে যেন এই জিডির কপি দেখে বাংলাদেশের বিপ্লবী সন্তানদের মা-বাবারা সাহস পান।’

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আক্ষেপ

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি করার কারণে আমার আপন ভাইকে উল্টো করে ঝুলিয়ে পেটানো হয়েছিল; সেই ভাই এখন সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে মিছিলে নেতৃত্ব দেয়। এটা দেখে আমি বুঝে গেছি, যেই ক্ষমতায় আসুক সালাহউদ্দিন তাদের ক্ষমতাকে প্রশ্ন করবে, আর যত বড় রক্তের মানুষ হোক না কেন, তখন তার বিরুদ্ধে কথা বলবে।’

ইতিবাচক রাজনীতির আহ্বান

সবশেষে ইতিবাচক রাজনীতির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রাজনীতি করুন, এটা আপনার অধিকার। সব দল, মত ও মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে রাজনীতি করুন, তবে সেটা যেন ইতিবাচক হয়। শত শহীদের রক্তের বিনিময়ে যেন আমরা বাংলাদেশকে একটি সুন্দর, সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে দেখতে পাই।’