জাতীয় সংসদে গ্যাস পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সংসদে এক বেসরকারি সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি বলেন, সরকার ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৯৪০ টাকা নির্ধারণ করলেও বাজারে তা ২২০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি লাইনের গ্যাসের চুলাও ‘মিটিমিটি’ জ্বলে এবং মন চাইলে এক ঘণ্টার জন্য গ্যাস আসে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্যাস নেই
রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া গ্যাসসমৃদ্ধ জেলা হলেও জেলার মানুষ গ্যাসের সুবিধা পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস সারা বাংলাদেশে যায়, কিন্তু এ জেলার মানুষ গ্যাস পায় না। নিজ নির্বাচনি এলাকা সরাইলের আবাসিক গ্রাহকদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত গ্যাসের চাপ থাকে না, চুলা ‘মিটিমিটি করে জ্বলে’। কখনও এক ঘণ্টার জন্য গ্যাস আসে, তারপর রাত পর্যন্ত আর গ্যাস থাকে না। শীতকালে এই সমস্যা আরও বাড়ে।
অবৈধ সংযোগ ও রাজস্ব হারানো
২০১৬ সালে বাসাবাড়িতে গ্যাসের নতুন সংযোগ বন্ধ হলেও অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে অবৈধ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন এই সংসদ সদস্য। এতে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে এবং বৈধ গ্রাহকরা গ্যাস পাচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিকল্প জ্বালানির সংকট
বিকল্প জ্বালানির খরচ ও সংকটের কথাও তুলে ধরেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, ১৯৪০ টাকার এলপিজি সিলিন্ডারের কথা বলা হলেও ২২০০ টাকার নিচে তা পাওয়া যায় না। বিদ্যুতের চুলার কথা বলতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা শহরে ১-২ ঘণ্টা লোডশেডিং হলেও গ্রামে তা ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত গড়ায়। গ্যাস ছাড়া চুলা জ্বালানোর জ্বালানি নেই।
গ্যাস নিশ্চিতের দাবি
নিজ জেলায় গ্যাস নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমার দাবি থাকবে আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ পাবে, তারপর এটি অন্য এলাকায় যাবে।’
জ্বালানিমন্ত্রীর জবাব
জবাবে জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় সরবরাহ কমেছে। উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার জন্য শিল্পকারখানায় যতখানি সম্ভব গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি আগের সরকারের সমালোচনা করে বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার গ্যাস উত্তোলনের জন্য কোনো অনুসন্ধান করেনি। বর্তমান সরকার বাপেক্সকে শক্তিশালী করে অনুসন্ধান কাজ শুরু করেছে। সফল হলে যেসব জায়গায় গ্যাস সংযোগ আছে সেখানে চাপ বাড়ানো সম্ভব হবে।
জ্বালানিমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, বিগত সরকার জ্বালানি খাতে জবাবদিহিতা এড়াতে দায়মুক্তির আইন করেছিল এবং খাতটিকে আমদানিনির্ভর করে দিয়েছে। এছাড়া দেশের পরিত্যক্ত গ্যাসক্ষেত্র থেকে অবশিষ্ট গ্যাস উত্তোলনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
আশুগঞ্জ সার কারখানা প্রসঙ্গ
পরে সিদ্ধান্ত প্রস্তাব প্রত্যাহারের আগে রুমিন ফারহানা আশুগঞ্জ সার কারখানার প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, গ্যাসের অভাবে কারখানাটি বন্ধ হয়ে গেছে। সেখানে গ্যাস সরবরাহ দেওয়া গেলে এলাকার মানুষের কাছে ‘মুখ দেখাতে’ পারবেন। জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ক্ষতি হলেও কৃষির কথা চিন্তা করে আগামী ১ মে থেকে সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।



