ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিন। বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ভবনে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
মনোনয়ন বাতিলের কারণ
নির্বাচন কমিশন জানায়, সরকারি চাকরি থেকে অব্যাহতির পর তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির যুগ্ম সচিব মো. মঈন উদ্দীন খান বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী এই শর্ত পূরণ না করলে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা থাকে না। শুনানিতে উঠে আসে, মনিরা শারমিন পূর্বে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। তিনি ২০২৩ সালের নভেম্বরে কৃষি ব্যাংকে যোগ দেন এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে চাকরি ছাড়েন। ফলে আইনি শর্ত অনুযায়ী তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়।
মনিরা শারমিনের বক্তব্য
এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে মনিরা শারমিন দাবি করেন, তার চাকরির ধরন বিবেচনায় এ বিধান প্রযোজ্য হওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে একজন দশম গ্রেডের কর্মকর্তা হিসেবে ব্যাংকের চাকরির ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ ভিন্নভাবে দেখা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। এ কারণেই তিনি আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।
অন্য প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল
একই জোটের আরেক প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্রও নির্ধারিত সময়ের ১৯ মিনিট পরে জমা দেওয়ায় বাতিল করা হয়েছে। সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মোট ৫৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে বিএনপি জোটের ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১২ জন এবং স্বতন্ত্র জোট থেকে একজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
আপিল ও শুনানির সময়সূচি
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত। আপিল শুনানি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল।



