ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের উনিশতম দিনে কাব্যিক উত্তেজনা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের উনিশতম দিনটি ছিল আজ বুধবার। বিকাল তিনটায় শুরু হওয়া এই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, আর সন্ধ্যার পর সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সংসদের ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন ও জাতীয় ইস্যু নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি উঠে এসেছে নানা ছোটখাটো ঘটনা, মন্তব্য ও অনাকাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত, যা জনমনে আলাদাভাবে নজর কেড়েছে।
ঝাঁঝালো মরিচের বদলে সুন্দরবনের মধু লাগানোর আহ্বান
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় সংসদে উত্তেজনার মধ্যে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান একটি কাব্যিক আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "আমরা রংপুরের ঝাঁজালো মরিচের কথা ভুলে যাই। আসুন সুন্দরবনের মধুটা একটু আমরা ঠোটে লাগাই।" সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে নানা ইস্যুতে, বিশেষ করে 'গুপ্ত' প্রসঙ্গে উত্তেজনা তৈরি হলে তিনি এই আহ্বান জানান। শফিকুর রহমান আরও বলেন, "আমরা পারবো ইনশাআল্লাহ, আমরা পারব কেন পারবো না—শুধু একটা গুড ইনটেনশন লাগবে, আমরা এই জাতিকে বিল্ড আপ করবো।"
তেলাপোকার কবিতা উদ্ধৃতি দিয়ে বিরোধী দলকে কটাক্ষ
গাইবান্ধা-৪ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার একটি কবিতা উদ্ধৃতি দিয়ে বিরোধী দলকে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, "শৈবাল দীঘিরে কহে উচ্চ করি শির, লিখে রেখো এক ফোঁটা দিলেম শিশির, তেলাপোকার পাখা আছে হোক সে বধির, মরিবার আগে করিতে চায় কিচির-মিচির।" রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি আরও মন্তব্য করেন, "গোলাভরা ধান থাকলে পাতানকে যেমন অস্বীকার করা হয় না, ঝোলাভরা রাজাকার থাকলেই দুই-একজন মুক্তিযোদ্ধাকে অস্বীকার করা হয় না।"
শামীম কায়সার বলেন, "ফ্যাক্ট এবং ন্যারেটিভের মধ্যে অনেক অসঙ্গতি আছে এবং বর্তমান জেনারেশনকে ভুল বোঝানো হচ্ছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ থাকলেও বাজারে ভিন্ন আলোচনা চলছে।" এর আগে একই আলোচনায় বরিশাল-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান বলেন, "মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন দলের কী ভূমিকা ছিল তা আমরা জানি। জামায়াতের মুক্তিযোদ্ধা আছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় তখন কেউ জামায়াত করতেন না, তারা জামায়াতে পরে গেছেন।"
ভোটারদের প্রতিবাদের হুঁশিয়ারি
সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁঞা বলেছেন, "বিরোধী দল সরকারকে নাজেহাল করতে চক্রান্ত চালাচ্ছে। সংসদে তাদের আচরণে মনে হচ্ছে, তারা দেশে সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি করতে দেবে না।" বিরোধী দলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, "আমাদেরকে যারা ভোট দিয়েছে তারা আঙুল চুষবে না, বসে থাকবে না। তারা প্রতিবাদ করবে, আমাদের ভোটাররা তাকিয়ে থাকবে না।"
বিরোধী দলের উদ্দেশে আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁঞা আরও বলেন, "যারা ৭১ সালের স্বাধীনতাকে মেনে নিতে পারে না, তারা দেশের উন্নয়নও চায় না এবং বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করছে।" এই মন্তব্যগুলো সংসদ অধিবেশনে রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলেছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।



