ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর সংসদ ভবন ও তার আশপাশের এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। শুক্রবার (৫ জুন) এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়।
নিষেধাজ্ঞার কারণ ও সময়সীমা
আগামী রোববার (৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এই অধিবেশন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য সংসদ ভবন ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি বলে মনে করে ডিএমপি। এ লক্ষ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশ অর্ডিন্যান্স (অর্ডিন্যান্স নং-III/৭৬)-এর ২৮ ও ২৯ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে শনিবার (৬ জুন) দিবাগত রাত ১২টা থেকে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
নিষিদ্ধ কার্যক্রম
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত এলাকায় সব ধরনের অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য, এবং অন্যান্য ক্ষতিকারক ও দূষণীয় দ্রব্য বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া যেকোনো প্রকার সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা, বিক্ষোভ প্রদর্শন ইত্যাদিও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত এলাকা
গণবিজ্ঞপ্তিতে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে এমন এলাকার বিস্তারিত তালিকা দেওয়া হয়েছে। নিম্নলিখিত সড়ক ও স্থানগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে:
- ময়মনসিংহ রোডের মহাখালী ক্রসিং থেকে পুরাতন বিমানবন্দর হয়ে বাংলামোটর ক্রসিং পর্যন্ত
- বাংলামোটর লিংক রোডের পশ্চিম প্রান্ত থেকে হোটেল সোনারগাঁও রোডের সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত
- পান্থপথের পূর্ব প্রান্ত থেকে গ্রিন রোডের সংযোগস্থল হয়ে ফার্মগেট পর্যন্ত
- মিরপুর রোডের শ্যামলী মোড় থেকে ধানমন্ডি-১৬ (পুরাতন-২৭) নং সড়কের সংযোগস্থল
- রোকেয়া সরণির সংযোগস্থল থেকে পুরাতন ৯ম ডিভিশন (উড়োজাহাজ) ক্রসিং হয়ে বিজয় সরণি পর্যটন ক্রসিং
- ইন্দিরা রোডের পূর্ব প্রান্ত থেকে মানিক মিয়া এভিনিউর পশ্চিম প্রান্ত
- জাতীয় সংসদ ভবনের সংরক্ষিত এলাকা এবং এ সীমানার মধ্যে অবস্থিত সমুদয় রাস্তা ও গলিপথ
এই সীমার মধ্যে পড়া সব সড়ক ও গলিপথ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
আদেশের মেয়াদ
গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই আদেশ বলবৎ থাকবে। অর্থাৎ, অধিবেশন চলাকালীন পুরো সময় জুড়ে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
ডিএমপি এই নিষেধাজ্ঞা জারির মাধ্যমে বাজেট অধিবেশনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চায়।



