পশ্চিমবঙ্গে ভোট গণনায় কেন্দ্রীয় কর্মী নিয়োগ: তৃণমূলের আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টে
পশ্চিমবঙ্গ ভোট গণনায় কেন্দ্রীয় কর্মী নিয়োগ: তৃণমূলের আবেদন খারিজ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনাপ্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় সরকার এবং কেন্দ্রীয় পাবলিক সেক্টর সংস্থার (পিএসইউ) কর্মীদের নিয়োগ করার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট।

আদালতের নির্দেশ

আদালত বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের ১৩ এপ্রিলের জারি করা নির্দেশিকা ‘যথাযথভাবে এবং অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে’। এই নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, গণনার কাজে নিয়োগ দেওয়া কর্মীদের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের কর্মীদের মধ্য থেকে ‘র‍্যান্ডম সিলেকশনের’ মাধ্যমে নির্বাচন করতে হবে।

আদালত আজ শনিবার বলেছেন, প্রতিটি টেবিলের গণনাকারী আধিকারিক এবং সহ-গণনাকারীর মধ্যে অন্তত একজনকে কেন্দ্রীয় সরকার বা কেন্দ্রীয় পিএসইউর কর্মী হতে হবে বলে নির্বাচন কমিশন যে নির্দেশ দিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে আলাদা করে কোনো আদেশের আর প্রয়োজন নেই।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তৃণমূলের আইনি লড়াই

এর আগে রাজ্য সরকারের কর্মীদের ভোট গণনার সুপারভাইজার অথবা সহকারী হিসেবে নিয়োগ না করার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টে গিয়েছিল তৃণমূল। তৃণমূলের দায়ের করা সেই অন্তর্বর্তীকালীন আবেদনটি ৩০ এপ্রিল খারিজ করে দেন কলকাতা হাইকোর্ট। তারপর তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল গতকাল শুক্রবার। সেখানেও আবেদনটি কার্যত খারিজ হয়ে গেল।

অর্থাৎ এই বিষয়ে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট—দুই আদালতেই ভোট গণনার দুই দিন আগে ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস। ৪ মে পশ্চিমবঙ্গসহ চার রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোট গণনা ও ফল ঘোষণা করা হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শুনানিতে তৃণমূলের যুক্তি

শুনানি চলাকালে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে আইনজীবী কপিল সিবাল চারটি বিষয় উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় কর্মীদের নিয়োগসংক্রান্ত সার্কুলারটি ১৩ এপ্রিল জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে জারি করা হয়েছিল। কিন্তু এটি ২৯ এপ্রিল জানা যায়। দ্বিতীয়ত, নির্বাচন কমিশন বলছে, প্রতিটি বুথে অনিয়মের আশঙ্কা রয়েছে। তৃতীয়ত, প্রতিটি গণনা টেবিলে ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনের একজন করে কেন্দ্রীয় সরকারি প্রতিনিধি (মাইক্রো অবজারভার হিসেবে) রয়েছেন। সে ক্ষেত্রে কেন আবার আরেকজন সরকারি কর্মী রাখা প্রয়োজন, জানতে চেয়েছিলেন সিবাল।

কপিল সিবালের আরও যুক্তি ছিল, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকায় রাজ্য সরকারের প্রতিনিধির বিধান থাকলেও নির্বাচন কমিশন কোনো রাজ্য সরকারি প্রতিনিধি নিয়োগ করেনি।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

সুপ্রিম কোর্ট এই যুক্তির বিপরীতে বলেন, নির্বাচন কমিশনের পক্ষে তাদের আইনজীবীর দেওয়া বিবৃতি পুনর্ব্যক্ত করা ছাড়া আর কোনো আদেশের প্রয়োজন নেই। ১৩ এপ্রিলের সার্কুলারটি ‘যথাযথভাবে এবং অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে।’

কপিল সিবালের যুক্তি শোনার পর বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মন্তব্য করেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকায় যদি গণনার সুপারভাইজার এবং সহকারী—উভয় পদেই কেন্দ্রীয় কর্মীদের নিয়োগের কথা বলা থাকত, তাহলেও আদালত সেই সিদ্ধান্তকে ত্রুটিপূর্ণ বলতে পারতেন না।

বিচারপতি বাগচী বলেন, গণনার সুপারভাইজার এবং সহকারী কেন্দ্রীয় সরকার বা রাজ্য সরকার—যেকোনো পক্ষেরই হতে পারেন, এই বিকল্পের সুযোগ রয়েছে। যেহেতু এই বিকল্প আছে, তাই আদালত এই বিজ্ঞপ্তিটিকে নিয়মের পরিপন্থী হিসেবে গণ্য করতে পারেন না।

কপিল সিবাল জোর দিয়ে বলেন, কমিশনকে যেন ওই সার্কুলার অনুসরণ করতে বলা হয়, যেখানে রাজ্য সরকারের মনোনীত প্রতিনিধির কথা উল্লেখ আছে। তিনি বলেন, ‘আমরা কেবল এটাই চাই, সার্কুলারের শর্তানুসারে সেখানে যেন রাজ্য সরকারের মনোনীত প্রতিনিধি উপস্থিত থাকেন।’