শরীয়তপুরে পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই সন্তানের জননী মনি আক্তার (৩১) নামের এক নারীকে মারধর ও চুল কেটে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে রাখার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা ওই নারীকে মারধর শেষে মাদক বিক্রির অভিযোগ এনে তার মুখে আলকাতরা মাখিয়ে ও গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
ঘটনার বিবরণ
শনিবার (১৩ জুন) সকালে শরীয়তপুর পৌর এলাকার উত্তর পালং শাবনূর মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মনি আক্তারের স্বামী প্রবাসে থাকেন। সম্প্রতি আর্থিক লেনদেন নিয়ে প্রতিবেশী দেলোয়ার দপ্তরি ও তার পরিবারের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়। ওই দিন সকালে আপোষ মীমাংসার জন্য মনি আক্তারকে বাড়িতে ডেকে নেন দেলোয়ার দপ্তরির পরিবারের সদস্যরা। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে দেলোয়ার দপ্তরির ছেলে পলক, মেয়ে মৌসুমী, স্ত্রী আমেনা ও আত্মীয় রহিমা তাকে মারধর করে এবং চুল কেটে দেয়।
অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া
মারধর শেষে অভিযুক্তরা মনি আক্তারকে মাদক বিক্রির অভিযোগ তুলে তার মুখে আলকাতরা মেখে ও গলায় জুতার মালা পরিয়ে তাকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখে। পুলিশ জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পেয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
ভুক্তভোগী মনি আক্তার বলেন, ‘আমি কোনো মাদক বিক্রি করি না। আপনারা চাইলে আমার মোবাইল চেক করে দেখতে পারেন। দেলোয়ার দপ্তরি আমার থেকে টাকা নিয়েছে, সেই প্রমাণ হিসেবে সে নিজেই ঢাকা গিয়ে আমাকে সই করে স্ট্যাম্প দিয়ে এসেছে। এখন সেই টাকার স্ট্যাম্প ফেরত নিতে সে তার পরিবারের লোকজন দিয়ে আমাকে মারধর করেছে, চুল কেটে দিয়ে মুখে আলকাতরা মেখে বেঁধে রেখেছে। আমাকে পলক হকি স্টিক দিয়ে পিটিয়েছে। আমি অন্যায় করলে তারা আইনের আশ্রয় নিতো। আমি সুষ্ঠু তদন্ত করে ওদের বিচার চাই।’
অভিযুক্তদের দাবি, মনি আক্তার মাদক বিক্রি করেন এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের হয়রানি করেন। দেলোয়ার দপ্তরির মেয়ে মৌসুমী আক্তার বলেন, ‘আমরা মনি আক্তারকে ছোট থেকেই কাকি বলে ডাকি। সে আমার আব্বুকে ভাই ডেকে পরকীয়া করেছে। আজ তাকে আপোষে ডেকেছিলাম কিন্তু সে গালাগালি করায় মহিলাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। ও আমার বাবাকে মিথ্যা মামলা দিয়েছে তাই তাকে বেঁধে রেখেছি। সে মাদক বিক্রি করে, তাকে সার্চ করলে মাদক পাওয়া যাবে।’
পুলিশের বক্তব্য
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ‘আমরা জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পেয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। তিনি সুস্থ হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
সামাজিক প্রতিক্রিয়া
এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।



