রামমন্দির ট্রাস্টের অনিয়ম: নিরীক্ষা প্রতিবেদনে অপেশাদার ব্যবস্থাপনার চিত্র
রামমন্দির ট্রাস্টের অনিয়ম: নিরীক্ষায় অপেশাদার ব্যবস্থাপনা

ভারতের অযোধ্যার শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট গঠনের মাত্র কয়েক মাসের মাথায় একটি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান ট্রাস্টের কাজকর্মকে অত্যন্ত অপেশাদার বলে সমালোচনা করেছিল। তারা স্পষ্ট জানিয়েছিল, দানের টাকার কোনো সঠিক হিসাব বা রেকর্ডই রাখা হচ্ছে না। ছয় বছর কেটে গেলেও সেই নিরীক্ষা সংস্থার দেওয়া সুনির্দিষ্ট কাজের নিয়ম (এসওপি) তৈরির সুপারিশ এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।

দানের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

এর মধ্যেই রামমন্দির কমিটির বিরুদ্ধে দানের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। উত্তর প্রদেশ সরকারের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) মঙ্গলবার (২৩ জুন) এ বিষয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ২০২০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ট্রাস্ট গঠিত হয়। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত শুধু নগদ টাকাতেই প্রায় ৩,৫০০ কোটি রুপি দান সংগ্রহ হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া সোনার গয়না, অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্রের দানও রয়েছে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনের বক্তব্য

২০২০ সালের নভেম্বরে জমা দেওয়া নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাস্টের অর্থ লেনদেন, হিসাব রক্ষণ এবং কর্মী ব্যবস্থাপনার কোনো স্পষ্ট নিয়ম নেই। প্রতিটি স্তরে সুনির্দিষ্ট এসওপি তৈরি করা জরুরি বলে সুপারিশ করা হয়। নিরীক্ষকরা আরও জানান, আর্থিক হিসাবের কোনো সঠিক খাতা নেই, কোন কর্মকর্তার কী দায়িত্ব তা স্পষ্ট নয় এবং পুরো ব্যবস্থাপনাই অপেশাদার পর্যায়ের। এমন পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে সতর্ক করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় গাফিলতি

অডিট বা নিরীক্ষা প্রতিবেদনে রামমন্দিরের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে একাধিক বড় ধরনের গাফিলতি ও অনিয়ম ধরা পড়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মন্দিরে আসা বিপুল পরিমাণ অর্থ কিংবা জিনিসপত্রের কোনো সঠিক রেকর্ড রাখা হয়নি। এমনকি কোনো আর্থিক লেনদেনের পর তা দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্তরে যাচাই করার মতো কোনো অভ্যন্তরীণ নজরদারি ব্যবস্থাও ছিল না। গয়না ও অলঙ্কারের মতো মূল্যবান দান সামগ্রীর জন্য আলাদা রেজিস্টার খাতা রাখার সুপারিশ করা হলেও তা পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে।

মানবসম্পদ ও আইটি ব্যবস্থাপনার অভাব

এছাড়া, কোনো প্রাতিষ্ঠানিক মানবসম্পদ (এইচআর) বিভাগ না থাকায় হাজার হাজার কর্মীর পুরো ব্যবস্থাপনাটি অত্যন্ত অগোছালোভাবে চলছে। অন্যদিকে, বাইরের আইটি কোম্পানির মাধ্যমে ডেটা এন্ট্রি করানো হলেও তথ্য সুরক্ষা ও ডেটা চুরির ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য ট্রাস্টের নিজস্ব কোনো নিয়ন্ত্রণ বা আইটি অডিট ব্যবস্থা নেই। ট্রাস্টের ওয়েবসাইটেও এসওপি বা অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা প্রতিবেদনের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইয়ের কাছে মন্তব্য চেয়েছিল। কিন্তু কেউই কোনো সাড়া দেননি। ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নিরীক্ষার সতর্কবার্তা যদি সময়মতো গুরুত্ব দেওয়া হতো, তাহলে হয়তো এই পরিস্থিতি এড়ানো যেত। এদিকে, দানের টাকা ও গয়নার হিসাব না মেলার অভিযোগে ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ বর্তমানে চাপে রয়েছে। কংগ্রেস নেতারা ইতিমধ্যে অযোধ্যায় বড় বড় হোর্ডিং লাগিয়ে দুর্নীতির প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ট্রাস্ট গঠনের পর থেকে বিপুল পরিমাণ জনগণের দান সংগৃহীত হয়েছে। কিন্তু স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এখন দেখার বিষয়, এসআইটির প্রতিবেদনের পর কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়।