লেখক তার পিতা এ সাত্তার মিঞার স্মৃতিচারণ করেছেন, যেখানে উঠে এসেছে জন্মসনদ, গৃহকর্মীর নিবন্ধন, কাঁঠালপাতার পিঠা, হজযাত্রা, জন্ডিসের চিকিৎসা ও পিতার জীবনদর্শনের নানা দিক।
জন্মসনদ ও নিবন্ধনের গুরুত্ব
লেখক উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে জন্মসনদ এখন অত্যন্ত জরুরি, যা ছাড়া এনআইডি কার্ড পাওয়া যায় না। তার মেয়ে জানতে চেয়েছিল, কেন তার দুটি জন্মতারিখ। ১৯৬৭ সালে বড় ভাইয়ের জন্মের পর পিতা তাকে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভায় জন্মনিবন্ধনের জন্য পাঠিয়েছিলেন। তখন থেকেই নিয়ম ছিল, কিন্তু অনেকে তা মানতেন না। লেখক নিজেও ঢাকায় মেয়ের জন্মের পর নগর ভবনে গিয়ে জন্মনিবন্ধন করেন।
গৃহকর্মীর নিবন্ধন ও নিরাপত্তা
১৯৬৭-৬৮ সালে পিতা গৃহকর্মী রাখলে তার নাম-ঠিকানা নোট বুকে লিখে রাখতেন এবং জানিয়েছিলেন, নিকটস্থ থানায় ছবিসহ বায়োডেটা জমা দেওয়ার নিয়ম আছে। লেখক বর্তমানে গৃহকর্মীর মাধ্যমে দুর্ঘটনার খবর দেখে পিতার সেই সচেতনতার প্রশংসা করেন।
কাঁঠালপাতার পিঠার ঐতিহ্য
বিক্রমপুরের ঐতিহ্যবাহী কাঁঠালপাতার পিঠা তৈরি করতেন পিতা। কাঁচা কাঁঠালপাতায় চালের গুঁড়ি দিয়ে আলপনা এঁকে বাষ্পে সিদ্ধ করে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হতো। মেহমান এলে গরম তেলে ভেজে চিনি ছিটিয়ে পরিবেশন করতেন। ফাস্ট ফুডের প্রচলনের আগে এই পিঠা ছিল অত্যন্ত আদরণীয়।
পিতার জমির দলিল পাঠ ও পারিবারিক সম্পর্ক
পিতা জমির দলিল পাঠোদ্ধার করতে পারতেন, যা তিনি চাচার কাছ থেকে শিখেছিলেন। চাচা তাকে 'ছত্তর' বলে ডাকতেন এবং হুঁকা জ্বালানোর নির্দেশ দিতেন। পিতা চাচা ও ফুপুদের পাশাপাশি মামা-খালাদেরও ভালোবাসতেন এবং সবার কাজে সাহায্য করতেন। বড় মামা নারায়ণগঞ্জ জয়গোবিন্দ হাইস্কুলের শিক্ষক ছিলেন।
হজযাত্রা ও পারিবারিক চিকিৎসা
পিতা মাকে নিয়ে হজে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু মা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ায় একাই যান। সৌদি আরব থেকে প্রতিদিন ল্যান্ড ফোনে ডাক্তার শরফুদ্দিন ভাইয়ের বাসায় ফোন করে মায়ের স্বাস্থ্যের খবর নিতেন। ডাক্তার মাহবুবুর রহমান বাসায় এলে দেশ, রাজনীতি ও ধর্ম নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা করতেন।
ব্যবসা ও অর্থ ব্যবস্থাপনা
পিতার পাটের ব্যবসা ছিল, অফিসের নাম 'কামাল ভাই অ্যান্ড কোম্পানি'। বাংলা নববর্ষে মিলাদ ও মিষ্টির আয়োজন করা হতো। পিতা লক্ষাধিক টাকা পকেটে নিয়ে ময়মনসিংহ রেলস্টেশনে রাত কাটিয়েছেন পাট কেনার জন্য, কিন্তু কখনো টাকা হারাননি।
জন্ডিসের চিকিৎসা ও আয়ুর্বেদিক মালা
১৯৬৫ সালে পিতার জন্ডিস হলে চিকিৎসক মাহবুবুর রহমানের পাশাপাশি আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাও চলত। একজন লোক আমগাছের বাকল ও চুনের পানি দিয়ে হাত-পা ধুইয়ে দিতেন। উববুত লাকরা গাছের ডাল দিয়ে মালা তৈরি করে পিতা সুস্থ হন এবং পরে তিনি ও বড়দা অন্যদেরও এই মালা দিতেন বিনা পারিশ্রমিকে।
পিতার স্মৃতি ও উপসংহার
শীতের সকালে পিতা তাকে মোটরবাইকে নিয়ে পাখি শিকারে যেতেন। লেখক বলেন, বাবা এক বিশাল বটবৃক্ষ, যার ছায়ায় সন্তানেরা নির্বিঘ্নে বেড়ে ওঠে। পিতা সন্তানের জন্যই বেঁচে থাকেন।



