কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানায় মাদক কেলেঙ্কারির ঘটনায় প্রত্যাহারের পর সদ্যবিদায়ী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল বারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একেএম বারী রহমান নামক তার নিজের ফেসবুক আইডির পোস্টটি নিয়ে এলাকায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
মাদক চালান গায়েবের অভিযোগ
পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সম্প্রতি একটি বড় মাদকের চালান গায়েব করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে থানার এসআই মো. ইমাম উদ্দিন এবং এএসআই হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এলে প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে ওসি আবদুল বারীকে দাউদকান্দি মডেল থানা থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।
ফেসবুকে ক্ষোভ ও চ্যালেঞ্জ
প্রত্যাহারের আদেশ জারির পর ওসি আবদুল বারী পদে বহাল হতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন। বুধবার তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট দেন। পোস্টে তিনি পরোক্ষভাবে তাকে ‘ষড়যন্ত্রের শিকার’ দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং প্রত্যাহারের বিষয়টি পুলিশের হঠকারী সিদ্ধান্ত বলে দাবি করেন।
পোস্টটির স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল সেই পোস্টে ওসি উল্লেখ করেন, ‘মাদক নিয়ে নিউজ হয়েছে এসআই এএসআইয়ের বিরুদ্ধে, আর ক্লোজ হয় ওসি। আমি পুলিশ পলিটিক্সের শিকার! যতদিন এই পুলিশ পলিটিক্স বন্ধ না হবে দেশের আইনশৃঙ্খলা ঠিক হবে না। চ্যালেঞ্জ করলাম আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে চাকরি ছেড়ে দেব। এসব কিছু হলুদ সাংবাদিকতার জন্য এবং আমাদের কিছু পুলিশ অফিসারের হঠকারী সিদ্ধান্তের জন্য পুলিশের মনোবল দুর্বল হচ্ছে। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে কুমিল্লা পুলিশের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, বিভাগীয় শৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক কারণেই তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফেসবুক পোস্ট দেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করা হবে।



