মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ের চুক্তিতে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২০ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোহাম্মদ আলমগীর এ তারিখ ধার্য করেন।
তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ দুদক
এদিন মামলাটির তদন্তকারী সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় বিচারক নতুন করে এই তারিখ নির্ধারণ করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অন্যান্য আসামি
মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ওবায়দুল কাদের, আনিসুল হক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, সাবেক সচিব এম এ এন ছিদ্দিক, অতিরিক্ত সচিব মো. ফারুক জলিল, উপ-সচিব মোহাম্মদ শফিকুল করিম, প্রকৌশলী মো. ফিরোজ ইকবাল, ইবনে আলম হাসান, মো. আফতাব হোসেন খান, মো. আব্দুস সালাম এবং সিএনএস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনীর উজ জামান চৌধুরী, পরিচালক সেলিনা চৌধুরী ও ইকরাম ইকবাল।
অভিযোগ ও আর্থিক ক্ষতি
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেমস (সিএনএস) লিমিটেডকে একক উৎসভিত্তিক দরপত্র পদ্ধতিতে মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্বে চলমান বৈধ টেন্ডার প্রক্রিয়া বাতিল করে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক আলোচনা ছাড়াই এ চুক্তি সম্পাদন করা হয়। সিএনএসকে নির্দিষ্ট অর্থমূল্যের পরিবর্তে মোট টোল আদায়ের ১৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৪৮৯ কোটি টাকার বিল গ্রহণ করে। অথচ ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত একই সেতুর টোল ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান এমবিইএল-এটিটির জন্য ব্যয় হয়েছিল মাত্র ১৫ কোটির কিছু বেশি।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২২ থেকে ২০২৫ মেয়াদে একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড তিন বছরের চুক্তি পায় ৬৭ কোটি টাকায়। সেই হিসাব পাঁচ বছরের জন্য সমন্বয় করলে ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১১২ কোটি টাকা। তুলনামূলক এই তথ্যের ভিত্তিতে দুদকের দাবি, সিএনএসকে একক উৎসভিত্তিক চুক্তি দেওয়ার কারণে রাষ্ট্রের প্রায় ৩০৯ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
মামলার ধারা
ওই ঘটনায় গত বছরের ১২ অক্টোবর দুদক শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলাটি করে।



