ফরিদপুরের মধুখালীতে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) হেফাজতে মারা যাওয়া ছাত্রলীগ কর্মী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্তকে (২৮) আটকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ছড়িয়ে পড়া ২ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, প্রান্তকে ধরতে তল্লাশির নাটক সাজানো হচ্ছে এবং পরিকল্পিতভাবেই তাকে আটক করা হয়েছে।
ভিডিওতে যা দেখা গেছে
ভিডিওতে দেখা যায়, ২১ জুন বিকালে মধুখালী উপজেলার পৌর সদরের গোন্দারদিয়া এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে প্রান্ত দাঁড়িয়ে ছিলেন। তখন তার পরনে লুঙ্গি, কাঁধে একটি ল্যাপটপের ব্যাগ ছিল। সেখানে তাকে ঘিরে ধরেন কয়েকজন, যাদের স্থানীয়রা ডিবি পুলিশের সদস্য বলে দাবি করেছেন। লাল রঙের টি-শার্ট পরিহিত এক ব্যক্তি প্রথমে প্রান্তের গতিরোধ করে এবং তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে। এরপর সাদা টি-শার্ট পরিহিত আরেক ব্যক্তি তাকে তল্লাশি করেন। দুই হাত দিয়ে কান ধরে তাকে দাঁড়িয়ে থাকতেও দেখা যায়। সাদা টি-শার্ট পরিহিত এক ব্যক্তি গালি দিয়ে প্রান্তকে থাপ্পড় মারে। তখন লাল টি-শার্ট পরা অপর ব্যক্তি তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, 'মারিস না'।
ভিডিওর ৪৩ সেকেন্ডের সময় ছাই রঙের চেক শার্ট পরা এক ব্যক্তিকে মোবাইল ফোনে বলতে শোনা যায়, 'লাঠি নিয়ে মরিচবাজার এলাকায় আসেন, দ্রুত আসেন'। প্রান্তের দেহ তল্লাশির কাজে তাকেও অংশ নিতে দেখা যায়। এরপর একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাস ঘটনাস্থলে আসে। সেখান থেকে নারী সদস্যসহ আরও কয়েকজন অভিযানে যুক্ত হন। ভিডিওর দুই মিনিট সাত সেকেন্ডের সময় ছাই রঙের শার্ট পরা ব্যক্তিকে কিছু একটা দেখিয়ে 'এ যে এক টোপলা' বলতে শোনা যায়। তবে ভিডিওতে দেখা যায়, সেটি প্রান্তের কাছ থেকে কিছুটা দূরে ছিল।
পরিবারের অভিযোগ
প্রান্তের মা খাদিজা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, 'আটকের পর ডিবি সদস্যরা আমার ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে যায়। সেখানে নারী সদস্য দিয়ে আমাকেও তল্লাশি করে। বাড়িঘর তল্লাশি করার পর আমার ছেলেকে নিয়ে যাওয়া হয়। ৬৫ হাজার টাকা দিলে আমার ছেলেকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে রাতে এক আত্মীয়ের সঙ্গে ডিবি পুলিশের কথা হয়। পরে ডিবি জানায়, এ ছেলে ছাত্রলীগ করে, তাকে ছাড়া হবে না। পরদিন সকালে এক লাখ টাকা নিয়ে ফরিদপুরে যেতে বলা হয়।'
খাদিজা আক্তার আরও বলেন, 'সকালে আমি এক লাখ টাকা নিয়ে ফরিদপুরে যাই। পরে শুনি আমার ছেলেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে গিয়ে ছেলের লাশ পাই। আমার ছেলেকে আমার সামনে থেকে জীবিত নিয়ে গেল, পরে তার লাশ পেলাম।'
পুলিশের বক্তব্য
প্রান্তের মৃত্যুর পর ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেছিলেন, 'মাদকবিরোধী অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়। হেফাজতে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।'



