রংপুর সিটি কর্পোরেশনের (আরপিসিসি) যান্ত্রিক বিভাগে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ১১৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার সাত মাস পরও প্রায় পাঁচ কোটি টাকা গোপনে একজন ঠিকাদারকে পরিশোধ করা হয়েছে। এই ঘটনা সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসায় শহরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঘুষ ও জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ প্রদান
সিটি কর্পোরেশন সূত্রের দাবি, কর্মকর্তারা দেড় কোটি টাকা ঘুষ দাবি করেন এবং পরে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়। পেছনের তারিখের নথি তৈরি করে এই অর্থ প্রদান অনুমোদন করা হয়। তিনজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই বেআইনি লেনদেনে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রকল্পের বিবরণ ও অনিয়ম
প্রায় চার বছর আগে সাবেক মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফার আমলে যান্ত্রিক বিভাগের জন্য ট্রাক, রোলার, বুলডোজারসহ বিভিন্ন আধুনিক যানবাহন ও ভারী সরঞ্জাম সংগ্রহের টেন্ডার ডাকা হয়। প্রকল্পের আওতায় ৩৩টি ওয়ার্ডের জন্য সরঞ্জাম কেনার কথা ছিল। কিন্তু সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানিয়েছে, ৩৪টি যানবাহন প্রায় তিন বছর ধরে অকেজো অবস্থায় মাহিগঞ্জ-ডিমলায় সংরক্ষিত আছে। এছাড়া ১৫টি ভারী যানবাহন রাধাবল্লভ এলাকায় খোলা আকাশের নিচে ফেলে রাখা হয়েছে। ছয়টি আধুনিক যানবাহন নষ্ট হয়ে গেছে বলে অভিযোগ।
অর্থ ফেরত না দিয়ে গোপন লেনদেন
প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয় ২০২৫ সালের ৩০ জুন। ততদিনে ঠিকাদাররা ছয়টি প্যাকেজের অধীনে ১০০টির বেশি যানবাহন ও সরঞ্জাম সরবরাহ করেছিলেন। সূত্রের দাবি, প্রকল্প শেষে প্রায় দুই কোটি টাকা অব্যয়িত ছিল, যা সরকারি বিধি অনুযায়ী ফেরত দেওয়ার কথা। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কোনো অনুমোদন ছাড়াই ঠিকাদার আরও ছয় কোটি টাকার যন্ত্রাংশ ও যানবাহন সরবরাহের দাবি জানায়।
কর্মকর্তাদের ভূমিকা
অভিযোগে বলা হয়েছে, সাবেক প্রশাসক আশরাফুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব রাকিব হাসান এবং ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আলী আজম এই লেনদেনে জড়িত। তারা প্রকল্প শেষ হওয়ার পরও পাঁচ কোটি টাকা পরিশোধের ফাইল তৈরি ও অনুমোদন করেন। যেহেতু প্রকল্পের তহবিল শেষ হয়ে গিয়েছিল, তাই কর্পোরেশনের নিজস্ব রাজস্ব তহবিল থেকে এই অর্থ পরিশোধ করা হয়।
কর্মকর্তাদের বক্তব্য
সাবেক প্রশাসক আশরাফুল ইসলাম পাঁচ কোটি টাকা পরিশোধের কথা স্বীকার করে বলেন, ফাইলটি রাকিব হাসান ও আলী আজম তাকে পাঠিয়েছিলেন এবং তিনি শুধু সই করেছিলেন। দায়িত্ব ওই দুই কর্মকর্তার বলে তিনি জানান। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আলী আজম বলেন, প্রকল্প পরিচালক অন্য একজন ছিলেন এবং তিনি এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ভারপ্রাপ্ত সিইও রাকিব হাসানের বক্তব্য নেওয়ার জন্য বারবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সাবেক মেয়রের প্রতিক্রিয়া
সাবেক মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা বলেন, তিনি টেন্ডার প্রক্রিয়া তদারকি করেছিলেন এবং প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৫ সালের ৩০ জুন শেষ হয়। প্রকল্পের অধীনে সব যানবাহন আগেই পাওয়া গিয়েছিল। তিনি সম্প্রতি জানতে পেরেছেন যে প্রকল্প শেষ হওয়ার পর পাঁচ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।



