ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আরও এক রোমাঞ্চকর রাত উপহার দিয়েছে ফুটবল। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে নরওয়ে। অন্যদিকে প্রায় এক ঘণ্টা বিলম্বিত ম্যাচে মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। দুটি ম্যাচই ভিন্ন ভিন্ন গল্প বলছে—একটি টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় অঘটন, আর অন্যটি কঠিন পরিস্থিতিতে ইংল্যান্ডের ধৈর্যের পরিচয়।
হালান্ডের গোলে ইতিহাস গড়ল নরওয়ে
রাউন্ড অফ সিক্সটিনের সবচেয়ে বড় অঘটন ঘটিয়ে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে নরওয়ে।
ব্রাজিল বল দখলে এগিয়ে থাকলেও শৃঙ্খল নরওয়েজিয়ান ডিফেন্স ভাঙতে পারেনি। ৭৯তম মিনিটে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে এরলিং হালান্ড গোল করে এগিয়ে দেন নরওয়েকে। ব্রাজিল সমতার জন্য চাপ দিলে ৯০তম মিনিটে আবারও হালান্ড গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। যোগ করা সময়ের ১০ম মিনিটে নেইমার পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করলেও আর সময় ছিল না। নরওয়ে তাদের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা জয় উদযাপন করে।
এই হারের মাধ্যমে ব্রাজিলের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে গেল। অন্যদিকে নরওয়ে আত্মবিশ্বাসী যে তারা টুর্নামেন্টে বাকি যেকোনো দলকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে।
ঝড় বিলম্ব কাটিয়ে ইংল্যান্ডের জয়
আয়োজক মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। ম্যাচ শুরু হয়েছিল প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে কারণ স্টেডিয়ামের আশপাশে তীব্র ঝড় বয়ে যাচ্ছিল।
বিলম্ব সত্ত্বেও ইংল্যান্ড দ্রুত ছন্দে ফিরে আসে। জুড বেলিংহাম ৩৬ ও ৩৮তম মিনিটে পরপর দুটি গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। মেক্সিকো ৪২তম মিনিটে জুলিয়ান কুইনোনেসের গোলে ব্যবধান কমায়।
৫৪তম মিনিটে ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার জ্যারেল কোয়ানসা লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ইংল্যান্ড ১০ জনে পড়ে। তবে অধিনায়ক হ্যারি কেইন ৬০তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান আবার দুই করেন। মেক্সিকোর রাউল জিমেনেজ ৬৯তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ম্যাচ ৩-২ করেন। শেষ সময়ে চাপ সত্ত্বেও ইংল্যান্ড জয় ধরে রাখে।
বিশ্বকাপের চলমান নাটক
ব্রাজিলের বিদায় এবং ইংল্যান্ডের কঠিন জয়ে বিশ্বকাপ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। নরওয়ের ঐতিহাসিক সাফল্য টুর্নামেন্টের চেহারা বদলে দিয়েছে, আর ইংল্যান্ডের ধৈর্য প্রমাণ করেছে যে তারা ফুটবলের সবচেয়ে বড় পুরস্কারের জন্য গুরুতর প্রতিদ্বন্দ্বী।



