ফরিদপুরের মধুখালীতে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) হেফাজতে মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে প্রান্ত (২৭) নামের এক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় ডিবি ফরিদপুর সদর জোনের ওসি সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
প্রত্যাহারের আদেশ ও কারণ
ওই অফিস আদেশে বলা হয়, ওসি সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেনকে প্রশাসনিক কারণে প্রত্যাহার করে মঙ্গলবার দুপুর ১টার মধ্যে ফরিদপুর পুলিশ লাইনসে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম বলেন, প্রশাসনিক কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ওই কর্মকর্তাকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
নিহতের পরিচয় ও ঘটনার বিবরণ
নিহত মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্দারদিয়া মহল্লার বাসিন্দা এবং ফরিদপুর আইন কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরিবারের দাবি, গত শনিবার (২০ জুন) বিকেল ৫টার দিকে ডিবি পুলিশ ইশতিয়াককে আটক করে। সে সময় তার মায়ের সামনেই তাকে অনেক মারধর করা হয়েছিল। পরবর্তীতে গত রোববার (২১ জুন) সকাল ৮টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডিবি হেফাজতে তার মৃত্যু হয়।
বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ
এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার ইশতিয়াকের জানাজার আগে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এলাকাবাসী। বিক্ষুব্ধ জনতা ৪০ মিনিটের জন্য ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে। এ সময় মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে যাত্রীদের দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়। পরে মৃত ইশতিয়াকের পরিবারের অনুরোধে অবরোধকারীরা অবরোধ তুলে নেয়।
বিএনপি নেতাদের বক্তব্য
এদিকে সোমবার দুপুর সোয়া দুটার দিকে মধুখালী ঈদগাহ ময়দানে জানাজার নামাজের আগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ সহ তিন জন বিএনপি নেতা বক্তব্য দেন। বিএনপি নেতারা এই ঘটনাকে ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করে দ্রুত এ ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।



