সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ মামলায় বিচার শুরু
সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ মামলায় বিচার শুরু

রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় ২৭ কাঠা সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুস সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আদালতের আদেশ ও পরবর্তী কার্যক্রম

সোমবার (৬ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক মো. আব্দুস সালামের আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ১৯ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

এদিন সকালে কারাগারে থাকা সালাম মুর্শেদীসহ অন্যান্য আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। জামিনে থাকা অন্যান্য আসামিরা আদালতে হাজিরা দেন। আসামিদের পক্ষের আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, বোরহান উদ্দীন, শাহীনুর ইসলাম খাদেমুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন আইনজীবী এই মামলা থেকে তাদের অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার অন্যান্য আসামি

মামলার বাকি আসামিরা হলেন- রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন খাদেম, প্রকৌশলী এম আজিজুল হক, সাবেক সদস্য (এস্টেট) লে. কর্নেল (অব.) এম নুরুল হক ও সাবেক পরিচালক আবদুর রহমান ভূঁঞা। এছাড়া সাবেক উপ-পরিচালক (এস্টেট) মো. আজহারুল ইসলাম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিব উল্লাহ ও গৃহায়ন, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সহকারী সচিব আবদুস সোবহান, সাবেক শাখা সহকারী মো. মাহবুবুল হক এবং কক্সবাজারের রামুর বাসিন্দা মীর মোহাম্মদ হাসান ও তার ভাই মীর মো. নুরুল আফছার।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযোগের বিবরণ

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে সরকারি কর্মচারী হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং অসৎ উদ্দেশ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত গেজেটে ‘খ’ তালিকাভুক্ত গুলশান আবাসিক এলাকার সিইএন (ডি) ২৭ নং, হোল্ডিং নং-২৯, রোড নং-১০৪ প্লটটি পরিত্যক্ত ২৭ কাঠা সম্পত্তির তালিকাভুক্ত থাকা সত্ত্বেও অবমুক্তকরণ ছাড়াই জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে মিথ্যা রেকর্ড তৈরি করেন। পরে হস্তান্তর অনুমতি ও নামজারি অনুমোদন করার মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের সুযোগ তৈরি করায় তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়।

গ্রেফতার ও বিচার প্রক্রিয়া

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর সালাম মুর্শেদীকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তদন্ত শেষে গত বছরের ডিসেম্বরে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দীর্ঘ শুনানির পর আদালত আজ অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর পথ খুলে দিলেন।