বিশ্বজিতের মেয়ে পল্লবী বললেন, রেখার চুম্বন দৃশ্য ছিল ভুল, সম্মতি নেওয়া উচিত ছিল
পল্লবী চ্যাটার্জি: রেখার চুম্বন দৃশ্যে সম্মতি ছিল না, ভুল হয়েছে

অভিনেত্রী রেখার জীবনের অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত অধ্যায় হলো তাঁর কৈশোরে শুটিং করা একটি চুম্বনদৃশ্য। প্রায় ছয় দশক পর সেই ঘটনার প্রসঙ্গ আবার সামনে এনেছেন অভিনেতা বিশ্বজিৎ চ্যাটার্জির মেয়ে পল্লবী চ্যাটার্জি।

পল্লবী চ্যাটার্জির বক্তব্য

পল্লবী সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তাঁর বাবা যদি সত্যিই ওই দৃশ্যে অংশ নিয়ে থাকেন, তাহলে আগে রেখার সম্মতি নেওয়া উচিত ছিল। তাঁর ভাষায়, ‘এটা অবশ্যই ভুল ছিল। যে-ই করুক না কেন, আগে সম্মতি নেওয়া উচিত ছিল।’ এ মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে বলিউডের সেই বহুল বিতর্কিত ঘটনাকে, যা প্রথমবার বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছিল লেখক ইয়াসের উসমানের লেখা জীবনীগ্রন্থ ‘রেখা: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’-তে।

ঘটনার বিবরণ

ঘটনাটি ১৯৬৯ সালের দিকে। তখন মাত্র ১৫ বছর বয়সী রেখা হিন্দি সিনেমায় নিজের জায়গা তৈরির জন্য সংগ্রাম করছেন। দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রজগৎ থেকে আসা এই কিশোরী তখনো বলিউডের নিয়মকানুন ভালোভাবে জানতেন না।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সেই সময় নির্মিত হচ্ছিল ‘আনজানা সফর’ নামের একটি ছবি। ছবিটি পরিচালনা করছিলেন রাজা নওয়াথে। ছবিতে রেখার বিপরীতে ছিলেন বিশ্বজিৎ।

জীবনীগ্রন্থের বর্ণনা অনুযায়ী, মুম্বাইয়ের মেহবুব স্টুডিওতে একটি রোমান্টিক দৃশ্যের শুটিং চলছিল। কিন্তু দৃশ্যটির প্রকৃত পরিকল্পনা সম্পর্কে নাকি আগে থেকে কিছুই জানতেন না রেখা। ক্যামেরা চালু হওয়ার পর বিশ্বজিৎ হঠাৎই তাঁকে জড়িয়ে ধরে চুমু খান। বইটির দাবি, পরিচালক ‘কাট’ বলেননি আর চুম্বনদৃশ্যটি কয়েক মিনিট ধরে চলতে থাকে। সেটে উপস্থিত অনেকেই তখন হাততালি, শিস কিংবা উল্লাস প্রকাশ করছিলেন।

বইয়ে বলা হয়েছে, হতভম্ব হয়ে যান কিশোরী রেখা। তিনি চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে ছিলেন আর তাঁর চোখ বেয়ে নেমে আসছিল জল। এ বর্ণনা প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। কারণ, এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি ছিল—রেখার সম্মতি আদৌ ছিল কি না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পল্লবীর প্রতিক্রিয়া

পল্লবী চ্যাটার্জি মনে করেন, ঘটনাটি সত্যি হয়ে থাকলে তা যেকোনো কিশোরীর জন্যই মানসিকভাবে আঘাতকর হতে পারে।

পল্লবীর মতে, সে সময়ের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে অনেকেই অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পুরো দৃশ্য না জানিয়ে অভিনয় করাতেন, যাতে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া ক্যামেরায় ধরা পড়ে। তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করে বলেছেন, কারও সম্মতি ছাড়া এমন কিছু করা ঠিক নয়।

পল্লবী বলেন, ‘তখন রেখা খুবই ছোট ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে একজন তরুণী কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে? অনেক সময় অস্বস্তিকর কিছু ঘটলেও প্রতিবাদ করার সাহস হয় না।’

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দুই পরিবারের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্কও ছিল। পল্লবীর ভাষ্য অনুযায়ী, রেখা প্রায়ই তাঁদের বাড়িতে যেতেন এবং দুই পরিবার ছিল ঘনিষ্ঠ। ফলে ঘটনাটি যদি সত্যিই ঘটে থাকে, তাহলে সেটি রেখার কাছে আরও বেশি বিশ্বাসভঙ্গের মতো মনে হওয়াই স্বাভাবিক।

বিশ্বজিতের ব্যাখ্যা

এ বিতর্ক নতুন নয়। অতীতেও বিশ্বজিৎ এ নিয়ে কথা বলেছেন। তাঁর দাবি ছিল, এটি ছিল পরিচালকের নির্দেশ। পরিচালক নাকি চেয়েছিলেন, রেখার মুখে প্রকৃত বিস্ময়ের অভিব্যক্তি ফুটে উঠুক। সে কারণেই আগে থেকে তাঁকে কিছু জানানো হয়নি।

বিশ্বজিৎ এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘এটা আমার ব্যক্তিগত আনন্দের জন্য ছিল না। ছবির প্রয়োজনে করা হয়েছিল। কিন্তু রেখা নিজেকে প্রতারিত মনে করেছিলেন এবং ভীষণ রেগে গিয়েছিলেন।’

বিশ্বজিতের এ বক্তব্য বিতর্ক কমানোর বদলে আরও বাড়িয়ে দেয়। কারণ, অনেকের মতে, কোনো দৃশ্যের শিল্পগত প্রয়োজন থাকলেও একজন অভিনেত্রীর সম্মতি ছাড়া তা করা নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

সেই সময়ের প্রেক্ষাপট

ষাট ও সত্তরের দশকের বলিউডে আজকের মতো ‘ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটর’, লিখিত সম্মতি বা শিল্পীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্পষ্ট নীতিমালা ছিল না। অনেক সময় পরিচালক বা প্রযোজকের সিদ্ধান্তই ছিল চূড়ান্ত। বিশেষ করে নতুন অভিনেত্রীদের পক্ষে আপত্তি তোলা কঠিন ছিল।

বর্তমান সময়ে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। এখন অন্তরঙ্গ দৃশ্যের আগে বিস্তারিত আলোচনা, লিখিত সম্মতি এবং পেশাদার তত্ত্বাবধানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। হলিউডের পাশাপাশি ভারতীয় চলচ্চিত্রশিল্পেও ধীরে ধীরে এ সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে