২৭ বছর আগের অর্থ আত্মসাতের একটি মামলায় বাংলাদেশ টেলিফোন ও টেলিগ্রাফ বোর্ড (বিটিটিবি) চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সাবেক তিন কর্মকর্তাকে একাধিক ধারায় ৪৪ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মো. মিজানুর রহমানের আদালত এ রায় দেন।
দণ্ডিত ব্যক্তিরা ও তাদের ভূমিকা
দণ্ডিত আসামিরা হলেন- সাবেক বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. কামরুল আলম, সাবেক বিভাগীয় প্রকৌশলী সাদিকুর রহমান খান ও সাবেক উচ্চমান সহকারী কাম-ক্যাশিয়ার মোহাম্মদ হোসেন। তারা পলাতক রয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পিপি অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রনি।
অর্থ আত্মসাতের বিবরণ
আদালত সূত্র জানায়, ১৯৯৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে বিটিটিবির বিভাগীয় প্রকৌশলী (ইমারত নির্মাণ) কার্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় মোহাম্মদ হোসেন ২৪টি চেকের অংক পরিবর্তন ও জালিয়াতির মাধ্যমে অনুমোদিত অর্থের অতিরিক্ত এক কোটি ৬৬ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। ওই অর্থ ক্যাশবুকে প্রদর্শন কিংবা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি। এ কাজে তৎকালীন বিভাগীয় প্রকৌশলী কামরুল আলম ও সাদিকুর রহমান খান সহযোগিতা করেন বলে তদন্তে উঠে আসে।
মামলার অগ্রগতি
এ ঘটনায় ১৯৯৯ সালের ৩১ অক্টোবর নগরের ডবলমুরিং থানায় মামলা হয়। পরে দুদকের তদন্ত শেষে ২০১৩ সালে তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। ২০১৪ সালের ৮ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। আদালতে ১৩ সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।
রায় ও পরবর্তী পদক্ষেপ
দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রনি বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি মোহাম্মদ হোসেন, মো. কামরুল আলম ও সাদিকুর রহমান খানকে একাধিক ধারায় ৪৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মোট ৪৪ বছর কারাদণ্ড হলেও সব কারাদণ্ড একসঙ্গে কার্যকর হবে। আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।



