অযোধ্যার রাম মন্দিরে কোটি টাকার অনুদান আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন
অযোধ্যার রাম মন্দিরে কোটি টাকার অনুদান আত্মসাতের অভিযোগ

ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় সদ্য নির্মিত রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া কোটি কোটি টাকার অনুদান ও মূল্যবান সামগ্রী আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই অর্থ কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার চরম রাজনৈতিক অস্বস্তিতে পড়েছে। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার সোমবার (২৮ জুন) প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

অভিযোগ উত্থাপন ও তদন্ত কমিটি

শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট নামক একটি স্বাধীন সংস্থা এই মন্দিরের সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে ট্রাস্টের হিসাবরক্ষণ দলের সাবেক পরিদর্শক মহিপাল সিং প্রথমবারের মতো মন্দিরের আর্থিক তহবিলের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়টি জনসমক্ষে আনেন। এর পরপরই উত্তর প্রদেশের প্রধান বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব দাবি করেন যে ভক্তদের দেওয়া কোটি কোটি রুপির অনুদান ও মূল্যবান সামগ্রী গায়েব করা হয়েছে।

এই তীব্র গণ-অসন্তোষ ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ে উত্তর প্রদেশ সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। রাজ্য পুলিশ একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করে নগদ টাকা ও মূল্যবান উপহার সামগ্রী গণনার দায়িত্বে থাকা আটজন কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পদত্যাগ ও জনমনে ক্ষোভ

এই ঘটনার জেরে ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায়সহ বেশ কয়েকজন ট্রাস্টি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। উদ্বেগজনক এই অর্থ আত্মসাতের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে সাধারণ সনাতন ধর্মাবলম্বী ও দাতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক ভক্ত এখন ট্রাস্টের কর্মকর্তাদের কাছে তাদের দেওয়া সোনার গহনা এবং রুপার ইটের বর্তমান হিসাব জানতে চাইছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অযোধ্যার বাসিন্দা ব্রজেশ কুমার জানান, ‘ট্রাস্টের কর্মকর্তারা আমাদের বিশ্বাসের সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং আমাদের ধর্মীয় আবেগকে লুট করেছে।’ এমনকি ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ভাঙার মামলায় অভিযুক্ত এবং পরবর্তীতে খালাস পাওয়া রাম মন্দির আন্দোলনের নেতা সন্তোষ দুবেও এই দুর্নীতিতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি ক্ষুব্ধ কণ্ঠে জানান যে, ‘কিছু ধূর্ত ও লোভী চোর এখন এই রাম মন্দির পরিচালনা করছে।’ তিনি এই আর্থিক অপরাধের জন্য জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।

রাজনৈতিক প্রভাব ও নির্বাচন

রাজনৈতিক বিশ্লেষক রশীদ কিদওয়াইয়ের মতে এই দুর্নীতি আসন্ন উত্তর প্রদেশ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির ওপর একটি বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ভারতের সবচেয়ে জনবহুল এই রাজ্যে আগামী বছরের শুরুতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে রাজনীতি করার এই চড়া মূল্য এবার মোদি সরকারকে দিতে হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: আল জাজিরা।