প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয়ে প্রতারণা: আরিফ মাঈনুদ্দিন গ্রেপ্তার
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয়ে নানা প্রতারণার অভিযোগে আরিফ মাঈনুদ্দিন (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে ঢাকার গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও কক্সবাজার জেলা পুলিশের যৌথ দল অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়।
ভুয়া প্রজ্ঞাপন ও ভিজিটিং কার্ড উদ্ধার
গ্রেপ্তারকৃত আরিফ মাঈনুদ্দিনের কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয়ে মিথ্যা প্রজ্ঞাপন, প্রধানমন্ত্রীর ছবিসংবলিত ভিজিটিং কার্ড ও দুটো মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে। আজ রোববার রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
ডিবি কর্মকর্তার বক্তব্য
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আরিফ মাঈনুদ্দিন ওরফে মাঈনুদ্দিন চৌধুরী নাম ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয়ে নানা প্রতারণায় লিপ্ত ছিলেন। তিনি একটি ভুয়া প্রজ্ঞাপন তৈরি করে দাবি করেন যে সরকার তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় নিয়োগ দিয়েছে।
এই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয় যে, এ পদে থাকাকালে তিনি প্রতিমন্ত্রীর সমপর্যায়ের বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা ও আনুষঙ্গিক সুবিধা পাবেন। আরিফ এই ভুয়া প্রজ্ঞাপন প্রতারণার উদ্দেশ্যে সরকারি–বেসরকারি বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছেন বলে জানানো হয়।
অতিরিক্ত অভিযোগ ও জব্দকৃত সামগ্রী
ডিবি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, আরিফ মাইনুদ্দিন গত ১০ ফেব্রুয়ারি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নকল লোগো ও প্যাড ব্যবহার করে একটি ভুয়া প্রজ্ঞাপন তৈরি করে তা প্রচার করেন। সেখানে তিনি নিজেকে গুমের ভিকটিম পুনর্বাসন হিসেবে রাষ্ট্রের বিশেষ সম্মানিত ব্যক্তি ঘোষণা করে এককালীন প্রণোদনা, স্থায়ী কর্মসংস্থান ও স্থায়ী বাসস্থান প্রদানের কথা উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া তিনি ‘গুম কল্যাণ ট্রাস্ট’-এর সদস্যসচিব পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ অর্থ হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক (প্রশাসন) সাহাবুদ্দিন জামিলের নামে বানানো সিলও জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশের তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা
পুলিশ জানিয়েছে, আরিফ মাঈনুদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধারকৃত প্রমাণাদি বিশ্লেষণ করে আরও তথ্য বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতেও তদন্ত চলছে।
এই ঘটনায় সতর্কতা জারি করে পুলিশ জনগণকে সরকারি দপ্তর বা উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের কাছ থেকে আসা যেকোনো প্রজ্ঞাপন বা যোগাযোগ সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে।



