প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয়ে প্রতারণা: কক্সবাজারে আটক আরিফ মইনুদ্দিন
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয়ে প্রতারণা, কক্সবাজারে আটক

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে কক্সবাজারে গ্রেপ্তার

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও রাষ্ট্রমন্ত্রীর মর্যাদার ভুয়া গেজেট বিজ্ঞপ্তি তৈরি করে ব্যাপক প্রতারণার অভিযোগে কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে আরিফ মইনুদ্দিন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ, কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট এবং কক্সবাজার জেলা পুলিশের যৌথ অপারেশনাল দল। ৫০ বছর বয়সী এই ব্যক্তিকে রবিবার দিবাগত রাতে চকরিয়া থানা এলাকা থেকে আটক করা হয়।

জাল গেজেট ও ভিজিটিং কার্ড তৈরি করে প্রতারণা

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, আরিফ মইনুদ্দিন সরকারি লোগো ও সীল জাল করে একটি ভুয়া গেজেট বিজ্ঞপ্তি তৈরি করেন। এই গেজেটে দাবি করা হয়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তাকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে রাষ্ট্রমন্ত্রীর মর্যাদায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই পদে থাকাকালীন তিনি রাষ্ট্রমন্ত্রীর সমান বেতন, ভাতা, সুযোগ-সুবিধা ও আনুষঙ্গিক সুবিধা ভোগ করবেন।

প্রতারণার উদ্দেশ্যে তিনি এই গেজেট বিজ্ঞপ্তি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যক্তির কাছে পাঠান। এছাড়াও তিনি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতে ভুয়া ভিজিটিং কার্ড তৈরি করে ব্যবহার করেন। ডিবি সূত্র আরও প্রকাশ করে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি আরিফ মইনুদ্দিন জোরপূর্বক গুম হওয়া ব্যক্তি হিসেবে পুনর্বাসিত হওয়ার দাবি করে আরেকটি জাল গেজেট তৈরি ও প্রচার করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিভিন্ন অভিযোগ ও উদ্ধারকৃত সামগ্রী

উক্ত গেজেটে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রের বিশেষ সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে তাকে এককালীন প্রণোদনা, স্থায়ী চাকরি ও স্থায়ী বাসস্থান প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও তিনি 'গুম কল্যাণ ট্রাস্ট'-এর সদস্য সচিব হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে জড়িত। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি, সিটিটিসি ও কক্সবাজার জেলা পুলিশের যৌথ দল রবিবার রাতে অপারেশন চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে পরিচয় দিতে ব্যবহৃত জাল গেজেট, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছবিসহ ভিজিটিং কার্ড এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

এই ঘটনায় কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারি করে বলেছে, যেকোনো সরকারি নিয়োগ বা সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কিত তথ্য সরাসরি সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে যাচাই করার পরই বিশ্বাস করতে হবে। ভুয়া দলিল বা পরিচয়পত্র ব্যবহার করে প্রতারণার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।