কুড়িগ্রামে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল অবৈধ মজুত, ব্যবসায়ীদের গুদামে আটক ২০ টন
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির বিপুল পরিমাণ চাল অবৈধভাবে ব্যবসায়ীদের গুদামে মজুত পাওয়া গেছে। স্থানীয় জনতা এসব চাল আটক করার পর গুদাম ঘরগুলো পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যবসায়ীরা পলাতক রয়েছেন, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও চাল আটক
বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে (১৯ মার্চ) ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের পাশে কাশিম বাজারে স্থানীয় ব্যবসায়ী ছমের আলী, রবিউল ইসলাম ও সোনাউল্লা মিয়ার গুদাম ঘর থেকে এসব চাল আটক করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গুদামগুলোতে খাদ্য অধিদফতরের সিলমোহরযুক্ত ৩০ কেজি চালের বস্তা এবং কিছু সিলবিহীন বস্তায় চাল অবৈধভাবে মজুত করা হয়েছিল।
তাৎক্ষণিকভাবে চালের সঠিক হিসাব করা সম্ভব না হলেও ধারণা করা হচ্ছে, তিনটি গুদামে ৭০০ থেকে ৮০০ বস্তায় কমবেশি ২০ মেট্রিক টন চাল থাকতে পারে। সহকারী পুলিশ সুপার (ভূরুঙ্গামারী সার্কেল) মুনতাসির মামুন মুন বলেন, ‘আটক এসব চাল সরকারি কর্মসূচির সিলযুক্ত বস্তায় পাওয়া গেছে। পুলিশ আসার আগেই গুদামের মালিকরা পালিয়ে গেছেন। আপাতত এসব চাল পুলিশি পাহারায় ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জিম্মায় রয়েছে।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালের সঙ্গে কিছু ভিজিএফের বরাদ্দকৃত চালও মজুত ছিল। তারা মনে করেন, নিরপেক্ষ তদন্ত করলে চাল চুরি চক্রের হোতাদের ধরা যেতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দা আলতাফ হোসেন জানান, ‘চেয়ারম্যান মেম্বাররা পাইকারদের কাছে চাল বিক্রি করে দিয়েছেন। পাইকাররা বিলির সময় জনসম্মুখে পরিষদের গুদাম থেকে এসব চাল নিয়ে এসে নিজেদের গুদামে রেখেছে। অথচ গরিব মানুষরা চাল না পেয়ে খালি হাতে ফিরে গেছেন।’
তবে বলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বলদিয়া ইউনিয়নে ৬৪ টন ৫৩০ কেজি ভিজিএফ চাল শতভাগ বিতরণ শেষ হয়েছে। এসব চাল কোথা থেকে এসেছে আমার জানা নেই।’ অভিযুক্ত গুদাম মালিক ও ব্যবসায়ীরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রশাসনের তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘ঘটনা তদন্তে লোক পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জেনেছি, চালগুলো খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সিলযুক্ত বস্তায় পাওয়া গেছে। এগুলো কীভাবে বা কোন প্রক্রিয়ায় ব্যবসায়ীদের গুদামে গেছে তা তদন্ত করে বের করা হবে। সে অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয় প্রশাসনকে ঘটনা সম্পর্কে জানানো হয়েছে এবং তারা তদন্ত শেষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। এই ঘটনা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির চাল বিতরণে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার গুরুতর ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা গরিব মানুষের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করতে পারে।



