সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে ২৫ কোটি টাকা ঋণ পাচার মামলায় বিচার শুরু
সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে ঋণ পাচার মামলায় বিচার শুরু

সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে ঋণ পাচার মামলায় বিচার শুরু

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী রুখমিলা জামানসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে ব্যাংক থেকে ভুয়া ব্যবসায়ী সাজিয়ে ঋণ নিয়ে অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান বুধবার শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

মামলার মূল অভিযোগ

দুদকের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, সাইফুজ্জামান চৌধুরী তাঁর মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপের কর্মচারী মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে মালিক হিসেবে দেখিয়ে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামের একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। জাল নথিপত্র তৈরি করে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) পোর্ট শাখা থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়।

ব্যাংকের ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগ ১৭টি নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ দিলেও তা উপেক্ষা করা হয় বলে দুদক জানায়। ওই সময় ইউসিবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন রুখমিলা জামান। অভিযোগে বলা হয়েছে, সাইফুজ্জামান চৌধুরী কার্যত ‘ডি ফ্যাক্টো’ চেয়ারম্যান হিসেবে ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং বোর্ড সভায় উপস্থিত থেকে ঋণ অনুমোদনে প্রভাব রাখতেন।

ঋণের অর্থের ব্যবহার ও পাচার

ঋণের ২৫ কোটি টাকার মধ্যে প্রায় ১৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা সাইফুজ্জামান চৌধুরীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আরামিট সিমেন্ট ও আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়ামের আগের দায় পরিশোধে ব্যবহার করা হয়। অবশিষ্ট ৯ কোটি ৪১ লাখ টাকা ইউসিবি ব্যাংকের জুবিলি রোড শাখা থেকে উত্তোলন করা হয়।

দুদকের দাবি, এই অর্থ হুন্ডি ও হাওলা প্রক্রিয়ায় প্রথমে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (দুবাই) পাচার করা হয়। পরে সেখান থেকে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে পাঠিয়ে সম্পদ কেনা হয়েছে।

তদন্তে উদ্ধার নথিপত্র ও বিদেশি সম্পদ

মামলাটির তদন্তের সময় রুখমিলা জামানের গাড়িচালক ইলিয়াসের এক প্রতিবেশীর বাসা থেকে ২৩ বস্তা নথিপত্র ও আলামত উদ্ধার করা হয়। এসব নথিপত্রে বিদেশে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা মূল্যের ১ হাজার ১০০টির বেশি ফ্ল্যাট ও রিয়েল এস্টেট কেনার তথ্য পাওয়া গেছে বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদকের উপপরিচালক মশিউর রহমান জানিয়েছেন।

দুদকের তথ্যমতে, সাইফুজ্জামান চৌধুরীর যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্তত ৯টি দেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যে ৩৪৩টি, দুবাইয়ে ২২৮টি ও যুক্তরাষ্ট্রে ১০টি বাড়ির তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি। এ ছাড়া থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভারত, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায়ও সম্পদ রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালতের আদেশ ও বিচার প্রক্রিয়া

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোকাররম হোসাইন আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আদালত মামলার পলাতক আসামি সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান, তাঁর স্ত্রীসহ ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন। আগামী ৪ এপ্রিল ধার্য দিনে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হবে।

গত ৪ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্রটি জমা দেয় দুদক। এর আগে ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর আদালত সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন। দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার পরও তাঁরা বিদেশে চলে যান।